সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০১:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হলো।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়াজেদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তার মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয় তদন্ত সংস্থা। গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে ২৪ মে আদালত দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। তবে বাদীপক্ষ এ আদেশ বাতিলের আবেদন করে। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।
এরপর গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও আদালতে দাখিল করা হয়।
যেভাবে হত্যা মামলা হলো
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন।
পরবর্তী সময়ে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য আদালত সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমানের বাবা রিভিশন মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
আদালতের নির্দেশনার পর ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমানের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সামীরা হক ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারে বাদী মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের অসুস্থতার খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।
এজাহারে আরও বলা হয়, সালমানের হাত-পায়ে কয়েকজন নারী তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাদীর দাবি, সালমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হত্যার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তার বাবা মৃত্যুর আগে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বর্তমানে বাবার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর।
আগামী ৮ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি জানা যাবে।





















