সাভারের সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
- আপডেট সময় : ১২:০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে
অবশেষে বেপরোয়া দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগসহ নানা ঘটনায় বিতর্কিত সাভারের সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টকারী সাভারের এই গুণধর সাবরেজিস্ট্রারের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করার দায়িত্ব পেয়েছেন আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনউদ্দিন কাদির। মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনউদ্দিন কাদির বলেন, ‘এটি মূলত প্রাথমিক অনুসন্ধান। ইতোমধ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তাকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। শিগগির সাভার সাবরেজিস্ট্র্রি অফিসেও যাবেন।’
দায়িত্বশীল একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, জাকির হোসেনের চাকরির বয়স মাত্র ৯ বছর। তিনি চাকরিতে যোগ দেন ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট। অথচ নামে-বেনামে তার সম্পদের তালিকা পিলে চমকানোর মতো। প্রাইজপোস্টিং খ্যাত বর্তমান কর্মস্থল রাজধানীর নিকটবর্তী সাভার ছাড়াও তিনি এর আগে জামালপুরের বকসিগঞ্জ, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন। তবে প্রতিটি কর্মস্থলে হাত খুলে ঘুস কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন বলে তথ্যভিত্তিক অনেক অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি ‘ম্যানেজ মাস্টার’ নামেও পরিচিত। যাকে যেভাবে বশে আনা দরকার, সে বিষয়ে তিনি বেশ পারদর্শী। আবার যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন সে সরকারের দলীয় লোক বনে যান। যে কারণে আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার কোনো বেগ পেতে হয়নি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সমন্বয়ক কোটায় দাপটের সঙ্গে চাকরি করেন। কাউকে পাত্তা দিতেন না। এখন আবার পুরোদস্তুর বিএনপি সাজার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়া যেখানে চাকরি করেন সেখানে তিনি শুরুতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বশে এনে ‘প্রটেকশন সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন। এই ক্ষমতাবলে সেবাপ্রার্থীসহ অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল প্রতি অফিস খরচের নামে নির্ধারিত কমিশন আদায় ছাড়াও রেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির চিহ্নিত দালালদের সহায়তায় তিনি জমির শ্রেণি জালিয়াতি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। এছাড়া বেশি মূল্যে রেজিস্ট্রি করা বায়না দলিল গোপন করে পরবর্তীতে কমমূল্যে সাব-কবলা দলিল করে চুক্তিবদ্ধ মোটা অঙ্কের ঘুস নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার শক্ত খুঁটি ছিল আইন মন্ত্রণালয়ে। এছাড়া কয়েকজন প্রভাবশালী সাবরেজিস্ট্রার তার নেপথ্যের গডফাদার হিসাবে পরিচিত। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হলে সেটি রহস্যজনক কারণে ধামাচাপা পড়ে। তদবির জোরাল হওয়ায় উলটো জাকির হোসেনকে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তার সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। সূত্র বলছে, সার্বিক সব বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করবে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি।
অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে যদি উল্লিখিত অভিযোগসমূহের সত্যতা বেরিয়ে আসে তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলা শুরু হবে। এছাড়া শিগগিরই তাকে প্রত্যাহার করে নিবন্ধন অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হতে পারে।
























