সাইবার অপরাধ মামলায় ৬ চীনা নাগরিক ৩ দিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিককে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গিয়াস উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আবুল কালাম ছয় আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আসামিদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শওকত ওসমান বলেন, মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সামনে এসেছে। জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
আসামিপক্ষের বক্তব্য
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নান আদালতে বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা প্রয়োজন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বৈধ কোনো উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসে থাকলে সেটিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
হোটেল সি-প্যালেস থেকে গ্রেপ্তার
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের হোটেল সি-প্যালেসে অভিযান চালিয়ে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, অন্তত ৩০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও যোগাযোগের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামু থানায় করা একটি অভিযোগ এবং ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হোটেলটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে রামু থানায় মামলা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গ্রহণ করে। বর্তমানে সংস্থাটি জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ
সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ডিভাইসে থাকা তথ্য থেকে আসামিদের অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি কার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং এসব যোগাযোগের সঙ্গে মামলার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ডিভাইস বিশ্লেষণ ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
কয়েকশ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিকদের কয়েকশ সদস্যের একটি দল কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অবস্থান করছিল। তাদের একটি অংশ অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে পুলিশের দাবি।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ছয়জনের সঙ্গে ওই দলের অন্য সদস্যদের কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কারাগার থেকে আদালতে হাজির
সোমবার সকালে কক্সবাজার কারাগার থেকে ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাদের সিআইডির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হবে। অনলাইন যোগাযোগ, লেনদেন এবং অন্যান্য ডেটা যাচাই করে মামলার অভিযোগের সঙ্গে এসব তথ্যের সম্পর্ক খুঁজে দেখা হবে।
তদন্তের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কথিত সংশ্লিষ্টতা, তাদের বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং জব্দ করা বিপুলসংখ্যক আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।






















