শীত মৌসুম শুরু হলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলের শুটকি পল্লীগুলো

0

শীত মৌসুম শুরু হলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলের শুটকি পল্লীগুলো। এ সময় সেখানে ধুম পড়ে স্বাদু পানির মাছ শুকানোর। তবে এ বছর চলনবিল আগেই শুকিয়ে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে গেছে। ফলে কমে গেছে শুটকীর উৎপাদন। তাই বাজারে চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় লাভবান হতে পারছেন না শুটকী ব্যবসায়ীরা।

শীত মৌসুম শুরু হলেই চলনবিল অঞ্চলে দেশী প্রজাতির বিভিন্ন মাছ ধরার ধুম পড়ে। আর এই স্বাদু পানির উদ্বৃত্ত মাছ দিয়ে এ অঞ্চলে উৎপাদন হয় শুটকি। চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাসহ নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও পাবনার চাটমোহরে তিন শতাধিক চাতাল ব্যস্ত হয়ে পড়ে শুটকি উৎপাদনে। বর্ষাশেষে আশ্বিন-কার্তিক থেকে চৈত্র পর্যন্ত শুটকি তৈরীর মৌসুম। এ সময় কাঁচা মাছ সংগ্রহের পর মহিলা শ্রমিকরা ধুয়ে, পরিষ্কার করে, রোদে শুকিয়ে প্রাকৃতিকভাবে এই শুটকি তৈরি করে। মৌসুমে প্রতিটি চাতালে গড়ে ১ হাজার টন শুটকি উৎপাদন হয়। কিন্তু এবছর চলনবিল আগেই শুকিয়ে যাওয়ায় কাঁচা মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই চাতালগুলোতে নেই আগের মতো ব্যস্ততা।

চলনবিলের উৎপাদিত শুটকির চাহিদা রয়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো ছাড়িয়ে পাশের দেশ ভারতেও। মৌসুমে ৩০ টাকা থেকে আড়াইশ’ টাকা কেজিদরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেনার পর, তা থেকে তৈরী শুটকি পাইকারি বাজারে সাড়ে ৩শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি করেও লাভে নেই ব্যবসায়ীরা।

শুটকী শিল্পের প্রসারে স্থানীয়ভাবে আধুনিক গুদাম ও অবকাঠামো স্থাপনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেন, এই ব্যবসায়ী নেতা। চলনবিল অঞ্চলে শুটকি ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে প্রায় ৫ হাজার নারী-পুরুষ। তাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আগে চলনবিল বাঁচাতে সরকারের পদক্ষেপ চান সিরাজগঞ্জবাসী।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন