০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, ৯০০ স্কুল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে হাইস্কুল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৯০০ স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়েছে।

বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশটির সরকারি স্কুলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেক স্কুল ভবন জরাজীর্ণ এবং শিক্ষার পরিবেশও সন্তোষজনক নয়।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানো এবং স্কুলের দৈনিক সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। পাশাপাশি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও অর্থ বরাদ্দ এবং অবকাঠামোর উন্নয়নও দাবি করেছেন তারা।

বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ

মঙ্গলবার রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, নিস, নান্তেসসহ বিভিন্ন শহরে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করেন।

স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেঁনে শহরে বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে দেন। প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় ময়লার পাত্র দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে আবর্জনায় আগুন ধরানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি শহরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পূর্ব প্যারিসের প্লাস দে লা নেশন এলাকাতেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণের দাবি

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে আয়োজকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও কর্মী মিলিয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।

একটি হাইস্কুল শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুল অবরোধ করা হয়েছিল অথবা ওই দিন বন্ধ রাখা হয়।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলের একটি হাইস্কুল থেকে আন্দোলনটি শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক সপ্তাহে ক্লাস বর্জন ও স্কুল অবরোধের ঘটনায় ৬ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশের ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেডের ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর একটি হাত হারিয়েছে।

ফরাসি বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সংগঠনগুলো। তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল।

স্কুল সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলের অবকাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। প্যারিসের এক বিক্ষোভকারী জুলিয়েট আইমার্ডের ভাষ্য, কিছু স্কুলে ইঁদুরের উপদ্রব, পানি জমে ভবনের ক্ষতি এবং ছত্রাকের সমস্যা রয়েছে। অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত হিটিং বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেই।

বিক্ষোভের মধ্যেই এসব সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

চলতি মাসের শেষ নাগাদ এসব বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার ও মেরামতের বিষয়টিও সরকার পর্যালোচনা করবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, ৯০০ স্কুল বন্ধ

আপডেট সময় : ০১:৪০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে হাইস্কুল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৯০০ স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়েছে।

বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশটির সরকারি স্কুলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেক স্কুল ভবন জরাজীর্ণ এবং শিক্ষার পরিবেশও সন্তোষজনক নয়।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানো এবং স্কুলের দৈনিক সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। পাশাপাশি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও অর্থ বরাদ্দ এবং অবকাঠামোর উন্নয়নও দাবি করেছেন তারা।

বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ

মঙ্গলবার রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, নিস, নান্তেসসহ বিভিন্ন শহরে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করেন।

স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেঁনে শহরে বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে দেন। প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় ময়লার পাত্র দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে আবর্জনায় আগুন ধরানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি শহরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পূর্ব প্যারিসের প্লাস দে লা নেশন এলাকাতেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণের দাবি

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে আয়োজকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও কর্মী মিলিয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।

একটি হাইস্কুল শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুল অবরোধ করা হয়েছিল অথবা ওই দিন বন্ধ রাখা হয়।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলের একটি হাইস্কুল থেকে আন্দোলনটি শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক সপ্তাহে ক্লাস বর্জন ও স্কুল অবরোধের ঘটনায় ৬ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশের ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেডের ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর একটি হাত হারিয়েছে।

ফরাসি বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সংগঠনগুলো। তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল।

স্কুল সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলের অবকাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। প্যারিসের এক বিক্ষোভকারী জুলিয়েট আইমার্ডের ভাষ্য, কিছু স্কুলে ইঁদুরের উপদ্রব, পানি জমে ভবনের ক্ষতি এবং ছত্রাকের সমস্যা রয়েছে। অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত হিটিং বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেই।

বিক্ষোভের মধ্যেই এসব সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

চলতি মাসের শেষ নাগাদ এসব বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার ও মেরামতের বিষয়টিও সরকার পর্যালোচনা করবে।