রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা হলে সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা হলে দেশটি হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে রাশিয়া অবগত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোতে অনুষ্ঠিত ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের বার্ষিক সভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন পুতিন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না: পুতিন
পুতিন বলেন, রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়া ২০২৯ বা ২০৩০ সালে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তারই জবাব দিচ্ছে মস্কো।
তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ভবিষ্যতে ইউরোপের কোনো দেশ বা অন্য কোনো রাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনা করছে না। তবে রাশিয়ার ওপর আগ্রাসন হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
কালিনিনগ্রাদ নিয়ে রাশিয়ার সতর্কবার্তা
চলতি সপ্তাহে রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ন্যাটো কালিনিনগ্রাদকে অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এই রুশ ভূখণ্ডকে মূল রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মস্কো।
পুতিনের বক্তব্যেও কালিনিনগ্রাদ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, রুশ ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলা হলে, তা কালিনিনগ্রাদে হোক বা অন্য কোনো ভূখণ্ডে, রাশিয়ার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সামনে আসবে।
পশ্চিমারা কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের শক্তি ও উপায় ব্যবহারের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ন্যাটোর পাল্টা বক্তব্য
রাশিয়ার অভিযোগের বিপরীতে ন্যাটো বলেছে, তারা একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। একই সঙ্গে মস্কোকে পারমাণবিক হুমকি দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, জোটের কোনো মহড়া বা কার্যক্রমই মস্কোর জন্য হুমকি নয়। ক্রেমলিনের এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয় এবং সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমাদের দায়ী করলেন পুতিন
বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমাদের দায়ী করেন পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া দাবি করে আসছে, পশ্চিমাদের উসকানির কারণে মস্কো সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় যে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরে রুশ জাহাজে হামলার জবাব বলেও দাবি করেন পুতিন।
তিনি আরও স্বীকার করেন, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে কিছুটা সফল হয়েছে। তার দাবি, এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
পুতিন তার বক্তব্যে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর হাতে থাকা ভয়াবহ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র নিয়েও সতর্ক করেন। এসব অস্ত্র পৃথিবীর প্রাণ ধ্বংস করে দিতে পারে বা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসব অস্ত্র কখনো ব্যবহার করা হবে না—এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।
এ সময় তিনি মঞ্চে রাখা বন্দুকের উদাহরণ দেন। তার বক্তব্যের অর্থ ছিল, কোনো নাটকের শুরুতে যদি মঞ্চে বন্দুক দেখা যায়, তাহলে শেষদিকে সেটি ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও পুতিনের সতর্কতা
যুদ্ধের স্বয়ংক্রিয়ীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের কারণে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলেও সতর্ক করেন পুতিন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার যুদ্ধকে আরও স্বয়ংক্রিয় করে তুলছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের স্বয়ংক্রিয়ীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের ফলে যুদ্ধ অনেকটা খেলায় পরিণত হচ্ছে। এর ফলে মানবতা অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে এবং আবারও বর্বরতার দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।




















