০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউক্রেনে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা, পরিবহন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিয়েভে দুজন, উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে চারজন এবং মধ্যাঞ্চলের পোলতাভা অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেতস বলেন, সারা রাত দেশজুড়ে রুশ হামলা চলেছে। তিনি রাতটিকে ‘আরেকটি নিদ্রাহীন রাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ব্যাপক হামলার পরও সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

১৩০ ড্রোন ও ৪৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন এবং ৪৮টি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের দাবি, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৬১টি আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।

কিয়েভ, পোলতাভা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক-শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

রাশিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের স্থাপনা। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ফ্লেমিংগো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয় বলে দাবি করেছে মস্কো।

পাঁচতলা ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র পাঁচতলা আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর কিয়েভের বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শহরের গভীর ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে চলে যান। রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

কিয়েভের ৪৯ বছর বয়সী বাসিন্দা লেসিয়া জানান, উঁচু ভবনের নবম তলায় বসবাস করায় হামলার সময় আতঙ্ক তৈরি হয়। তাই তিনি মেট্রো স্টেশনকে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনের পাশাপাশি কিয়েভ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দনিপ্রো শহরে রাতভর বিমান হামলায় একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়ায় পরিবহন অবকাঠামো এবং ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে নতুন করে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

রাশিয়া বলছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে দুই পক্ষের দেওয়া হামলা, লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা, পরিবহন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিয়েভে দুজন, উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে চারজন এবং মধ্যাঞ্চলের পোলতাভা অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেতস বলেন, সারা রাত দেশজুড়ে রুশ হামলা চলেছে। তিনি রাতটিকে ‘আরেকটি নিদ্রাহীন রাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ব্যাপক হামলার পরও সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

১৩০ ড্রোন ও ৪৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন এবং ৪৮টি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের দাবি, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৬১টি আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।

কিয়েভ, পোলতাভা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক-শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

রাশিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের স্থাপনা। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ফ্লেমিংগো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয় বলে দাবি করেছে মস্কো।

পাঁচতলা ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র পাঁচতলা আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর কিয়েভের বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শহরের গভীর ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে চলে যান। রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

কিয়েভের ৪৯ বছর বয়সী বাসিন্দা লেসিয়া জানান, উঁচু ভবনের নবম তলায় বসবাস করায় হামলার সময় আতঙ্ক তৈরি হয়। তাই তিনি মেট্রো স্টেশনকে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনের পাশাপাশি কিয়েভ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দনিপ্রো শহরে রাতভর বিমান হামলায় একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়ায় পরিবহন অবকাঠামো এবং ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে নতুন করে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

রাশিয়া বলছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে দুই পক্ষের দেওয়া হামলা, লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।