রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অর্ধশতাধিক গাড়ির নেই ফিসনেট সার্টিফিকেট

0

সড়কে চলার জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ-আরএমপি’র অর্ধশতাধিক গাড়িরই নেই ফিসনেট সার্টিফিকেট। তবে পুলিশ বলছে, এসব গাড়ির কাগজপত্র কখনো যাচাই হয় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে এগুলো চলছে বীরদর্পে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ সব গাড়ির কাগজ হালনাগাদ করতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিঠিও দিয়েছে বিআরটিএ। এতেও খুব একটা ফল হয়নি। পুলিশের ফিটনেসবিহীন গাড়ির এমন চিত্রই ধরা পড়েছে এসএটিভি’র অনুসন্ধানে।

রাজশাহীর সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যান ঠেকাতে দারুণ ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস,রুট পারমিট, ইনস্যুরেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে, আর রক্ষা নেই। সরাসরি মামলা। গুণতে হচ্ছে জরিমানাও। সারা শহরে যখন এমন কড়াকড়ি, তখন এসএটিভি’র ক্যামেরা মেট্রোপলিটন পুলিশের গাড়ি বহরের দিকে।

আইন বলছে, গাড়ির হালনাগাদ ফিটনেস না থাকা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা যেসব সরকারি গাড়িতে চড়েন, সেগুলোর বেশির ভাগেরই নেই ফিটনেস সার্টিফিকেট। ফিটনেস না থাকা আরএমপি’র জীপ, মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ, প্রিজনার ভ্যান, ট্রাক ও মোটরসাইকেলসহ মোট ৫৮টি মোটরযানের তালিকা মিলেছে যেগুলো দিব্যি চলাচল করছে। এর বাইরেও বেশ কয়েকটি মাইক্রো ও লেগুনা মাসিক ভাড়ায় চালাচ্ছে পুলিশ। এগুলোরও কাগজপত্র নিয়ে- আছে প্রশ্ন।

সড়কে খোদ পুলিশেরই অবৈধ যানবাহন কীভাবে চলছে? এর কোনো জবাব নেই মহাসড়কের চেকপোস্টে থাকা এই সার্জেন্টের কাছে।

অনুসন্ধান বলছে, কোনো কোনো গাড়ির ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ বছর আগে। আবার কোনোটির বৈধতা ছিল ২০০৬ সাল পর্যন্ত। পুলিশের এভাবে আইন এড়িয়ে চলার প্রবণতাকে সুশাসনের পরিপন্থী বলছেন বিশ্লেষকরা।

তবে মেয়াদ পার হওয়া গাড়িগুলোর কাগজপত্র শিগগিরই হালনাগাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন, আরএমপির মুখপাত্র।

এদিকে, আরএমপি’র অন্তত ১৩টি গাড়ির কাগজপত্রের কোনো হদিসই নেই বিআরটিএ’র স্থানীয় কার্যালয়ে। মেয়াদ পার পাওয়া ৫৮টি গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করতে আরএমপি’কে এখন জরিমানাসহ গুণতে হবে প্রায় ২৩ লাখ টাকা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন