রাজশাহীতে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ফরেনসিক ল্যাব

0

রাজশাহীতে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ফরেনসিক ল্যাব। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি পরিচালিত এ ল্যাবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে ভিসেরা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধসহ অন্তত নয়টি বিষয় কম্পিউটারাজইড পদ্ধতিতে পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞ মত দেয়া হচ্ছে। এর ফলে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমে আসবে।

মামলায় জব্দ করা কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলামত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক ল্যাবের টেস্ট রিপোর্ট বিচার কাজের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এ কাজটির জন্য রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তারা এতদিন ঢাকার একমাত্র ফরেনসিক ল্যাবের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন। ঢাকায় একদিকে যাতায়াতে যেমন সময় লাগতো বেশি, তেমনি আলামতের মান নষ্ট হওয়ারও আশাংকা থাকতো। পাশাপাশি রিপোর্টও মিলতো দেরীতে। কিন্তু রাজশাহীতে সিআইডির আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব চালু হওয়ায় এখন স্বস্তি ফিরেছে।

আঙ্গুলের ছাপের সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মিল আছে কিনা, তাও জানা যাবে এই ল্যাবে। দেশী-বিদেশী জাল নোট সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যাবে মেশিন স্পেকট্রাল কম্পারেটরের মাধ্যমে। হাতের লেখা, বিতর্কিত ছবির আসল রূপ নির্ণয়, গাড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্রের নম্বর মুছে ফেলা বা ট্রেড মার্কসহ যে কোনো ক্রমিক নম্বর বিকৃত করা হলে, ধরা পড়বে এখানে। পাশাপাশি করা যাবে হেরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য এবং রাসায়নিক পরীক্ষার কাজ। এতে সহজে নিষ্পত্তি হবে মামলা। বলছেন ল্যাব কর্মকর্তারা।

এদিকে, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এ ল্যাবে পরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্যের আলামতই এ পর্যন্ত সবচে’ বেশি জমা পড়ছে। ৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ মহাপরিদর্শক এই বিভাগীয় ফরেনসিক ল্যাবের উদ্বোধন করেন। এরপর মামলার আলামত হিসেবে এসেছে মাদকের ৪৯৩টি ও ভিসেরা ২৮টি। তবে সিআইডির এই ল্যাবে এখনো ডিএনএ এবং সাইবার অপরাধের আলামত পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন