০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৭০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুই নেতার পরিচয়

মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অন্যদিকে জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

যে ঘটনায় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ জুন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহের প্রথম গেটের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।

দুই বছরের কারাদণ্ড

মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্যান্য ধারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পরে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম।

আপিলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র নয়জনকে আদালতে হাজির করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য এবং মামলার অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। আপিলে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়।

আদালতে আত্মসমর্পণ

সোমবার আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম।

আইনজীবী বলেন, ২০১৭ সালে করা মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করা হবে।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুই নেতার পরিচয়

মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অন্যদিকে জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

যে ঘটনায় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ জুন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহের প্রথম গেটের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।

দুই বছরের কারাদণ্ড

মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্যান্য ধারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পরে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম।

আপিলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র নয়জনকে আদালতে হাজির করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য এবং মামলার অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। আপিলে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়।

আদালতে আত্মসমর্পণ

সোমবার আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম।

আইনজীবী বলেন, ২০১৭ সালে করা মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করা হবে।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।