যমুনার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা বেড়া উপজেলার মানুষ

0

যমুনার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পাবনার বেড়া উপজেলার চর পেঁচাকোলা গ্রামের মানুষ। গত ক’দিনের ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবারের কমপক্ষে ৫ শতাধিক ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। ভাঙন রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায়, দশ বছরে চর পেঁচাকোলা গ্রামের ৮০ ভাগই নিশ্চিহ্ন হয়েছে যমুনার ভাঙনে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করায়, ভাঙন বাড়ছে।

বেড়া উপজেলার চর পেঁচাকোলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়ালের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন। তিন দশক ধরে যমুনা পাড়ে বসবাস করে আসছেন তিনি। কখনও ভাবেননি, এই যমুনাই কেড়ে নেবে তার সবকিছু। সব হারিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া এখন আর কিছুই করার নেই তার।

শুধু বুলবুলি খাতুনই নন, তার মতো চর পেঁচাকোলা গ্রামের অনেক পরিবারই সর্বশান্ত হয়েছে যমুনার আগ্রাসী ভাঙনে। এরিমধ্যে গ্রামটির ৮০ ভাগ চলে গেছে যমুনা নদীতে। গত ক’দিনের ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবারের কমপক্ষে ৫শ’ ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। এছাড়া একটি স্কুল, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ নিশ্চিহ্ন হয়েছে নদীগর্ভে। ভাঙনের মুখে রয়েছে একটি গোরস্তান, একটি স্কুল ও একটি মসজিদ। ভাঙনের জন্য প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলনকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলছেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বালু উত্তোলনকারীদের প্রতিরোধে কাজ করছে প্রশাসন। এলাকাবাসীকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

আগামীতে চর পেঁচাকোলা গ্রামের পুরোটাই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগেই ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে– এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

 

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন