০৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়া থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরলেন ১,৫০০ রোহিঙ্গা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যেই এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে মালয়েশিয়া।

মিয়ানমারের মন্ত্রী নে লিন তুনের বরাতে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া থেকে দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজে করে ১ হাজার ৪৭৯ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা হন। পরে রোববার (৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোরে তারা দক্ষিণ ইয়াঙ্গুনে পৌঁছান।

১,৪৭৯ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হলো

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন অভিবাসী আটক কেন্দ্রে মিয়ানমারের ১০ হাজার ৩০০ জনের বেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রত্যাবাসন করা ব্যক্তিরা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, আটক অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের সামনে বাস্তবে ফেরত যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না।

ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআরও। সংস্থাটি গত সপ্তাহে জানায়, রোহিঙ্গারা প্রকৃত অর্থেই স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরেছেন কি না, তা যাচাই করতে তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়নি।

এ কারণে প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, স্বাধীন মতামত এবং দেশে ফেরার প্রকৃত ইচ্ছা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অভিযানের পর প্রত্যাবাসন

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ও অভিবাসী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। দেশটির অভিবাসন বিভাগের এসব অভিযানে ২০২৬ সালে ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থী আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়ার মধ্যেই গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের ঘোষণা দেন।

আরও রোহিঙ্গাকে ফেরানোর পরিকল্পনা

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, দেশটিতে থাকা শরণার্থীদের একটি অংশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি করছে। এই যুক্তিতে আরও ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি শরণার্থীকে দ্বিতীয় দফায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কুয়ালালামপুর।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠালে তাদের জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মালয়েশিয়া থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরলেন ১,৫০০ রোহিঙ্গা

আপডেট সময় : ০১:৪০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যেই এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে মালয়েশিয়া।

মিয়ানমারের মন্ত্রী নে লিন তুনের বরাতে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া থেকে দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজে করে ১ হাজার ৪৭৯ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা হন। পরে রোববার (৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোরে তারা দক্ষিণ ইয়াঙ্গুনে পৌঁছান।

১,৪৭৯ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হলো

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন অভিবাসী আটক কেন্দ্রে মিয়ানমারের ১০ হাজার ৩০০ জনের বেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রত্যাবাসন করা ব্যক্তিরা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, আটক অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের সামনে বাস্তবে ফেরত যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না।

ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআরও। সংস্থাটি গত সপ্তাহে জানায়, রোহিঙ্গারা প্রকৃত অর্থেই স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরেছেন কি না, তা যাচাই করতে তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়নি।

এ কারণে প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, স্বাধীন মতামত এবং দেশে ফেরার প্রকৃত ইচ্ছা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অভিযানের পর প্রত্যাবাসন

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ও অভিবাসী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। দেশটির অভিবাসন বিভাগের এসব অভিযানে ২০২৬ সালে ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থী আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়ার মধ্যেই গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের ঘোষণা দেন।

আরও রোহিঙ্গাকে ফেরানোর পরিকল্পনা

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, দেশটিতে থাকা শরণার্থীদের একটি অংশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি করছে। এই যুক্তিতে আরও ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি শরণার্থীকে দ্বিতীয় দফায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কুয়ালালামপুর।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠালে তাদের জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।