বেনাপোল স্থলবন্দর আকস্মিক পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান আকস্মিকভাবে বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিদর্শনকালে তিনি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, যাত্রীসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান এবং যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়েদ রফিকুল ইসলাম বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পৌঁছান। তাদের এ আকস্মিক পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভা
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান।
সভায় বেনাপোল স্থলবন্দরের বর্তমান কার্যক্রম, যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রীসেবার মান উন্নত করা, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাণিজ্য গতিশীল করার আলোচনা
বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত হয়ে থাকে। ফলে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখা এবং সেবার মান উন্নত করা দুই দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাণিজ্যের অগ্রগতি এবং বন্দর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সেবা সহজ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়।
বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সেবার মান বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বন্দরটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শনে ছিলেন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা
মতবিনিময় সভায় বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো. রুহুল আমিনসহ ইমিগ্রেশন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভায় অংশ নেন।
সভায় বন্দর পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং যাত্রীসেবা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং সমন্বিত কার্যক্রমের গুরুত্বও উঠে আসে।
বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন
মতবিনিময় সভা শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এবং বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন করেন।
এ সময় তারা সীমান্তের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি বন্দরের বিভিন্ন শেড ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল ও বন্দরের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। পাশাপাশি এ বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই বন্দরের নিরাপত্তা, যাত্রীসেবার মান এবং কার্যক্রমের গতি বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এবং বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বেনাপোল স্থলবন্দর ত্যাগ করেন। তাদের এ পরিদর্শনে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়।






















