বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মাকে ধর্ষণের পর অপহরণ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সন্তানরা

0

বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মাকে ধর্ষণের পর অপহরণ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সন্তানরা। এরপর অসহায় ওই মহিলার কাছ থেকে দুই হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মাদক মামলায় চালান দেয়া হয় আদালতে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে গোয়েন্দা পুলিশ ও পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে। তবে এখনো অপরাধীরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। বরং জীবন বাঁচাতে নির্যাতিত ওই মহিলা ও তার স্বামী এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অপরাধ জগৎ নিয়ে তৈরি যে কোন সিনেমার গল্পকে হার মানানো চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায়।

গেল বছরের ২৯ আগস্ট সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতেই স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তান ও তার সহযোগীদের হাতে ধর্ষণের শিকার হন এই নারী। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে চলন্ত গাড়িতেই কয়েক ঘন্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে ফেলে যায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায়। কিছু সময়ের মধ্যেই আসে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে অসহায় ওই নারীর মনে ন্যায় বিচারের আশা জাগে। কিন্তু থানায় একদিন আটকে রেখে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়া হলে -সে স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় । চারমাস কারাভোগের পর জামিনে বের হলেও দু:সহ সেই নির্যাতনের স্মৃতি তাড়া করে ফেরে তাকে। ফুটেজ-১ ও ২

এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই আলাদাভাবে তদন্ত করে। তদন্তে নির্যাতিত নারীর স্বামীর প্রথমপক্ষের সন্তান কামরুল হাসান খোকন, সিতাকুণ্ড থানার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান , এসআই সিরাজ মিয়া ও এএসআই জাকির হোসেনসহ অন্তত ১২ জনের সংশ্লিষ্টতা পায়। কিন্তু তারা সবাই এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। উল্টো সন্ত্রাসী আর পুলিশের হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নির্যাতিতা। গ্রাফিক্স-১-৫

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এখনো দায়িত্বে থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এই মানবাধিকার কর্মী। পুলিশের দুটি সংস্থা সংশ্লিষ্টতা পেলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো পায়নি, আর তাই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। সন্তান নামের দুর্বৃত্তদের হাতে নির্যাতিত হয়ে মিথ্যা মামলায় চারমাস কারাভোগের পর দিশেহারা ওই নারী। তাইতো পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপরই ক্ষুব্ধ তিনি। একমাত্র ন্যায় বিচারই পারে অসহায় এই নারীর মনে আইনের আস্থা ফেরাতে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন