০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্পে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পটির গবেষক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা

প্রায় ১০ বছর ধরে চলা গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন গবেষকরা। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশকে মূল্যবান জ্বালানির কাঁচামালে রূপান্তর করা সম্ভব।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে। প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

স্থাপন করা হবে পাইলট প্ল্যান্ট

গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির বাস্তব কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। এ পর্যায়ে সরকারি সহায়তা পেলে গবেষণার ফলাফলকে শিল্প পর্যায়ে নেওয়ার পথ সহজ হতে পারে।

বছরে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

গবেষকদের ধারণা, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের আগে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণাগারের সাফল্যকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর করাই হবে প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জ্বালানি সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশের কার্যকর ব্যবহার বাড়লে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমানো এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্পে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পটির গবেষক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা

প্রায় ১০ বছর ধরে চলা গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন গবেষকরা। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশকে মূল্যবান জ্বালানির কাঁচামালে রূপান্তর করা সম্ভব।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে। প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

স্থাপন করা হবে পাইলট প্ল্যান্ট

গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির বাস্তব কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। এ পর্যায়ে সরকারি সহায়তা পেলে গবেষণার ফলাফলকে শিল্প পর্যায়ে নেওয়ার পথ সহজ হতে পারে।

বছরে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

গবেষকদের ধারণা, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের আগে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণাগারের সাফল্যকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর করাই হবে প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জ্বালানি সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশের কার্যকর ব্যবহার বাড়লে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমানো এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।