ফরিদপুরের মধুখালীতে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৪ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের মধুখালীতে পারিবারিক জমিজমা ও গরুর ঘরের পানি বের করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জায়েদুল বিশ্বাস ওই এলাকার মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু পালন করতেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে।
পানি নিষ্কাশন ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের তিন ছেলে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িতে জায়গা কম থাকায় জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়েও এর আগে একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া ও স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বসতঘরের সিঁড়ি নির্মাণ এবং বাড়িতে জমে থাকা পানি বের করা নিয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কাঠের বাটামের আঘাতে গুরুতর আহত
এ সময় আমুদে বিশ্বাসের ছেলে শাকিল বিশ্বাস (২৫) কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁর চাচা জায়েদুল বিশ্বাসকে আঘাত করেন বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জায়েদুল।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডুমাইন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, তিন ভাই একই বাড়িতে বসবাস করেন। জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার সালিশও হয়েছে। শুক্রবার গরুর ঘরের পানি বের করাসহ নানা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়। পরে ভাতিজা শাকিলের আঘাতে জায়েদুল নিহত হন।
নিহতের প্রতিবেশী ও গ্রাম পুলিশ আলিপ বিশ্বাস বলেন, গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। শুক্রবার এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে শাকিল কাঠের বাটাম দিয়ে জায়েদুলকে আঘাত করেন।
মরদেহ মর্গে, গ্রেপ্তারে অভিযান
খবর পেয়ে মধুখালী থানার ওসি (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মাসুদুজ্জামান। তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
























