০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৭৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, পাইকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, পাইক এখনো জীবিত আছেন। তবে তার ভবিষ্যৎ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।

এক ঘণ্টা ধরে শিরায় ইনজেকশন দেওয়ার চেষ্টা

পাইকের আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার শিরায় আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। স্পাইভি বলেন, তিনি পাইকের বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করতে দেখেছেন। একটি সূঁচ বের করার সময় সেটি বাঁকা হয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বোঝা যায় যে পাইক তখনো শ্বাস নিচ্ছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের একটি অন্ধকার কক্ষে পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল। ফলে সেখানে কী ঘটছিল, সে বিষয়ে তারা সরাসরি জানতে পারেননি।

পাইকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তিনি অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। তাদের মতে, এ ঘটনায় নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্ত থাকার অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড

বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন পাইক। বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার অনুমতি দিলে কার্যক্রম এগিয়ে যায়।

স্লেমারের মা মে মার্টিনেজও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় টেনেসিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে ছিলেন। তবে ব্যর্থতার পর এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ঘটনাটি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল।

টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কী ঘটেছে এবং কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি চলতি বছরের বাকি সময় টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর। এর ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও স্থগিত থাকবে।

তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় অনুমোদিত এবং রাজ্যের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছে।

২০২৬ সালে দ্বিতীয়বার ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড

চলতি বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে মে মাসে টনি কারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। সে সময় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার জন্য তার শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এদিকে টেনেসির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ঘটনাটির পর বৈদ্যুতিক চেয়ার ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনারও দাবি জানান।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

আপডেট সময় : ১২:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, পাইকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, পাইক এখনো জীবিত আছেন। তবে তার ভবিষ্যৎ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।

এক ঘণ্টা ধরে শিরায় ইনজেকশন দেওয়ার চেষ্টা

পাইকের আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার শিরায় আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। স্পাইভি বলেন, তিনি পাইকের বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করতে দেখেছেন। একটি সূঁচ বের করার সময় সেটি বাঁকা হয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বোঝা যায় যে পাইক তখনো শ্বাস নিচ্ছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের একটি অন্ধকার কক্ষে পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল। ফলে সেখানে কী ঘটছিল, সে বিষয়ে তারা সরাসরি জানতে পারেননি।

পাইকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তিনি অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। তাদের মতে, এ ঘটনায় নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্ত থাকার অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড

বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন পাইক। বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার অনুমতি দিলে কার্যক্রম এগিয়ে যায়।

স্লেমারের মা মে মার্টিনেজও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় টেনেসিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে ছিলেন। তবে ব্যর্থতার পর এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ঘটনাটি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল।

টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কী ঘটেছে এবং কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি চলতি বছরের বাকি সময় টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর। এর ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও স্থগিত থাকবে।

তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় অনুমোদিত এবং রাজ্যের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছে।

২০২৬ সালে দ্বিতীয়বার ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড

চলতি বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে মে মাসে টনি কারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। সে সময় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার জন্য তার শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এদিকে টেনেসির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ঘটনাটির পর বৈদ্যুতিক চেয়ার ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনারও দাবি জানান।