পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের
- আপডেট সময় : ০২:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
গড় আয়ুর হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৭ বছর। একই সময়ে ভারতে গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর।
তবে শুধু কত বছর বেঁচে থাকা যাচ্ছে, তা দিয়ে মানুষের জীবনমান পুরোপুরি বোঝা যায় না। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। ডব্লিউএইচওর হিসাবে, বিভিন্ন দেশে গড় আয়ু বাড়লেও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় অনেক ক্ষেত্রে একই গতিতে বাড়েনি।
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের গড় আয়ু
২০২৩ সালের হিসাবে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৭ বছর। এর বিপরীতে ভারতে ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর। অর্থাৎ গড় আয়ুর হিসাবে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ১ দশমিক ৭ বছর এবং পাকিস্তানের চেয়ে ৪ দশমিক ৫ বছর এগিয়ে রয়েছে।
তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালে গড় আয়ু ছিল ৭৮ দশমিক ৫ বছর। কানাডায় তা ছিল ৮১ দশমিক ৪ বছর। ফলে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে এখনো আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মহামারির পর ভারতে গড় আয়ু বেড়েছে
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, মহামারির সময় ভারতে গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ২০১৯ সালে দেশটিতে গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৫ বছর। ২০২১ সালে তা কমে ৬৮ দশমিক ১ বছরে নেমে যায়। এরপর ২০২২ সালে আবার বেড়ে ৭০ দশমিক ৫ বছর এবং ২০২৩ সালে ৭১ বছরে দাঁড়ায়।
অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মাত্র দুই বছরে ভারতীয়দের প্রত্যাশিত আয়ু ২ দশমিক ৯ বছর বেড়েছে। তবে একই সময়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় বেড়েছে তুলনামূলকভাবে কম।
২০২৩ সালে ভারতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় ছিল ৬০ দশমিক ৬ বছর। ২০২১ সালে এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ দুই বছরে এটি ২ দশমিক ২ বছর বেড়েছে। তবে ২০১৯ সালের ৬০ দশমিক ৫ বছরের তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ বছর।
বদলে যাচ্ছে মৃত্যুর কারণ
ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এ ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জীবন প্রত্যাশা, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময়, মৃত্যুর কারণ এবং বিভিন্ন রোগের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এই হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু মহামারির আগের সময়ের কাছাকাছি ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় এখনো আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরতে পারেনি।
ভারতের ক্ষেত্রেও রোগের ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০০০ সালে দেশটির মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের সম্মিলিত মৃত্যুহারের প্রায় ৬২ শতাংশের জন্য সংক্রামক রোগ দায়ী ছিল। বিপরীতে অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যু ছিল ৩৪ শতাংশ।
২০২৩ সালে চিত্রটি পুরোপুরি বদলে যায়। ওই বছর মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের সম্মিলিত মৃত্যুহারের প্রায় ৭৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ। সংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যু ছিল ১৬ শতাংশ। বাকি অংশ ছিল বিভিন্ন ধরনের আঘাতজনিত কারণে।
হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস বড় ঝুঁকি
২০০০ সালে ভারতে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে যক্ষ্মা ও ডায়রিয়াজনিত রোগ শীর্ষে ছিল। প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে এসব রোগে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ৯২ দশমিক ৪ ও ৮৭ দশমিক ৮।
অন্যদিকে ২০২৩ সালে হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে উঠে আসে। প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে এসব রোগে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ১৩৮ দশমিক ৫, ৮৩ দশমিক ১৯, ৭৪ দশমিক ৮ এবং ৪৯ দশমিক ০১।
তবে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২৩ সালেও ডায়রিয়াজনিত রোগ, যক্ষ্মা এবং শ্বাসতন্ত্রের নিচের অংশের সংক্রমণ ভারতের মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে ছিল।
বিশ্বেও বাড়ছে অসংক্রামক রোগের প্রভাব
বিশ্বজুড়েও মৃত্যুর কারণ হিসেবে অসংক্রামক রোগের আধিপত্য বাড়ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৭৪ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী ছিল। ২০০০ সালে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ। একই বছর বিশ্বের মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ।
২০২৩ সালে বিশ্বে গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ দশমিক ৩ বছরে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ মহামারির আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে এসেছে বিশ্বে গড় আয়ু। তবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় ছিল ৬২ দশমিক ৮ বছর, যা ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।





















