পরিবহন খাতে অসংখ্য কোম্পানি গঠন করার কারণেই পরিবহনে নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না

0

রাজধানীর পরিবহন খাতে অসংখ্য কোম্পানি গঠন করার কারণেই পরিবহনে নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিশিষ্টজনরা। তবে নিরাপদ সড়ক ও মাদক সমস্যা সমাধানে আইনের সঠিক বাস্তবায়নসহ এ বিষয়ে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানান তারা। চালকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয় বলে দাবি করেন সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান। ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।

দেশে আতংকের বড় নাম হয়ে উঠেছে এখন রাজপথ বা সড়ক-মহাসড়ক। প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে গড়ে ১২টি তাজা প্রাণ। পঙ্গুত্ববরণ করছেন আরো কয়েকগুণ। রাতারাতি পথে বসছে এসব পরিবার। গত এক বছরেই ৩ হাজার একশ’রও বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। আহত হয়েছে আরো প্রায় ৮ হাজার। এসব দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশই ঘটেছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে। ফলে জীবনহানির পাশাপাশি বছরে জিডিপি’র অন্তত ২ শতাংশ বা ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এতে চ্যালেঞ্জ পড়েছে টেকসই উন্নয়ন।

‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনায় ঢাকার সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধিসহ পরিবহন নৈরাজ্যের জন্য কোম্পানি গঠনকে দায়ী করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তা মানতে নারাজ পরিবহন খাতে কোম্পানি গঠনের কারিগর সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমুল হুদা।পরিবহন খাতে শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাঁদাবাজি, বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি, দক্ষ চালকের ঘাটতি, গাড়ির ফিটনেসের অভাবসহ মহাসড়কে কমগতির যানবাহন অবাধে চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি সরকারের আমলেই পরিবহন খাতে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন নৌপ্রতিমন্ত্রী। তবে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে বরাবরের মতোই চালকদের পক্ষে সাফাই গাইলেন পরিবহন শ্রমিক নেতা শাহজাহান খান। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সচেতনতা গড়তে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করাসহ পরিবহন খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। বৈঠকে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৪২ শতাংশ গাড়ি চাপায়, ২৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৭ শতাংশ গাড়ি উল্টে এবং ৪ শতাংশ খাদে পড়ে ঘটছে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন