মজুত ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাসকূপের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সুন্দলপুর সাউথ-১ নামের এই অনুসন্ধান কূপের দুটি জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাবে, কূপটি থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে।
সোমবার (২ নভেম্বর) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এদিন কূপে অগ্নি প্রজ্বলনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
বাপেক্স জানিয়েছে, নতুন এই গ্যাসকূপ থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদন শুরু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়তা মিলতে পারে।
সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপের খননকাজ শুরু ৮ জুলাই
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপ খননে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স। খননকাজে ব্যবহার করা হয়েছে বাপেক্সের নিজস্ব বিজয়-১০ রিগ।
গত ৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়। কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এরপর ভূগর্ভের দুটি পৃথক জোনে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।
অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভূগর্ভের বিভিন্ন স্তর পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি গ্যাসের উপস্থিতি, চাপ ও উৎপাদনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হয়েছে। এসব প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কূপটির সম্ভাব্য গ্যাসের মজুত নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
দুটি জোনে গ্যাসের মজুত ৯৭.৬৯ বিসিএফ
বাপেক্সের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপের দুটি জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া আগামী ২০ বছর পর্যন্ত কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ের বিবেচনায় এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। তবে এই পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে কূপটির প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার ওপর।
এ জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্যাসের চাপ, প্রবাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
১৫ দিন চলবে পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষা
গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর কূপটিতে আরও ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) পরীক্ষা চালানো হবে।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কূপটিতে তেল বা অন্য কোনো পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা চালানো হবে।
ডিএসটি পরীক্ষার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে গ্যাসের প্রবাহ ও চাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কূপটির প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়।
এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা
দেশে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন দিয়ে পুরো চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র ও কূপের সন্ধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নোয়াখালীর সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপ থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্যাস উত্তোলন করা গেলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়বে।
বিশেষ করে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে কূপটি ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে কূপটির প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা এবং গ্যাসের সরবরাহ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। আগামী ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষার ফলাফল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন এই গ্যাসকূপের সন্ধান দেশের জ্বালানি অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

























