নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত: ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ১২:২৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
নোবেল শান্তি পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ২০২৬ সালের পুরস্কার তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে নিজেরই সন্দেহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, তার মতো ব্যক্তিদের নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার ‘সুনাম’ রয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির।
নোবেল পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাশা
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান ট্রাম্প।
আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। পুরস্কার ঘোষণার আগে নিজের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন না কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তবে তার দাবি, তার মতো মানুষদের পুরস্কার না দেওয়ার একটি ‘সুনাম’ রয়েছে কমিটির।
দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে দাবি করে আসছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার তার প্রাপ্য।
‘এখন তো সেই সময় এসে গেছে’
বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এখন তো সেই সময় এসে গেছে।’ এ সময় তিনি ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, গত বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজেও বলেছিলেন, ইতিহাসে আর কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এই পুরস্কারের বেশি যোগ্য নন। মাচাদোর কাছ থেকে পরোক্ষভাবে পুরস্কার পাওয়ায় তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাচাদো তার ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলায় নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
আটটি সংঘাত বন্ধের দাবি
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর বিশ্বের আটটি সংঘাত বন্ধ করেছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তার মতে, এসব কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য তিনি।
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা এর আগে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। তবে তাদের এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই।
ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করেন, সেগুলোর কয়েকটির পক্ষ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি কিছু এলাকায় আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের সংঘাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও এখনো পূরণ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়েছে এবং গ্যাসের দামও বেড়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় কারা?
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার, তা জানা যাবে শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির ঘোষণার পর।





















