নথিবিহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারে ইইউর নতুন বিধিমালা
- আপডেট সময় : ০১:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা নথিবিহীন ও অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে নতুন বিধিমালায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। গত ১ অক্টোবর লুক্সেমবার্গে ইইউ কাউন্সিলের বৈঠকে ‘রিটার্ন রেগুলেশন’-এ আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে জুনের শুরুতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইইউ কাউন্সিলের মধ্যে বিধিমালাটি নিয়ে সমঝোতা হয়। পরে পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর কাউন্সিলের চূড়ান্ত সম্মতির মধ্য দিয়ে এটি কার্যকরের শেষ ধাপ সম্পন্ন করে।
নথিবিহীন অভিবাসীদের ওপর বাড়বে চাপ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশিকে ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তাকে সংশ্লিষ্ট দেশ ত্যাগ করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। সহযোগিতা না করলে আটক, নিষেধাজ্ঞা এবং বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ইইউ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া বিদেশিদের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশকে বাস্তবে বহিষ্কার করা সম্ভব হয়। নতুন বিধিমালার অন্যতম লক্ষ্য হলো এই প্রত্যাবাসন কার্যকর করার হার বাড়ানো।
‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের সুযোগ
নতুন বিধিমালায় ইইউর বাইরের তৃতীয় দেশে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো সদস্য রাষ্ট্রে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিকে নির্দিষ্ট শর্তে অন্য দেশে পাঠানো যেতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে জোরপূর্বক এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে ওই ব্যক্তির নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের রিটার্ন হাবে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়নি। তবে শিশু-সন্তানসহ পরিবার এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।
আটক রাখার সময় বাড়ছে
নতুন বিধিমালায় প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও ছয় মাস পর্যন্ত আটকের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসহযোগিতা কিংবা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের আটক করার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
শিশু-সন্তানসহ পরিবার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটকও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে করা যাবে। তবে এটি সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে এবং যত কম সময় সম্ভব প্রয়োগ করতে হবে।
ইউরোপে প্রবেশে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা
নতুন বিধিমালায় বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের ইউরোপে পুনঃপ্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিষেধাজ্ঞা ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বা অনির্দিষ্ট সময়ের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সুযোগও রাখা হয়েছে।
আপিল করলেও বহিষ্কার স্থগিত নাও হতে পারে
বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেই আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার স্থগিত থাকবে না। ফলে কোনো বিদেশি আইনি চ্যালেঞ্জ জানালেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বহিষ্কার কার্যকর হতে পারে।
এ ছাড়া নতুন নিয়মে ব্যক্তিগত সামগ্রী ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি বা জব্দের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা প্রয়োগের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং প্রতিকারের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে ইইউ।
মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
নতুন বিধিমালা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইইউর বাইরের দেশে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের ফলে এমন ব্যক্তিদেরও তৃতীয় দেশে পাঠানো হতে পারে, যাদের সঙ্গে ওই দেশের কোনো সম্পর্ক নেই।
বেলজিয়ামভিত্তিক অভিবাসনবিষয়ক সংগঠন পিকাম বলেছে, নতুন নিয়ম অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের পরিধি বাড়াবে। একই সঙ্গে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা মানুষ সরকারি সেবা বা সুরক্ষার আবেদন করতে ভয় পেতে পারেন।
ইইউ অবশ্য বলছে, তৃতীয় কোনো দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন মানা বাধ্যতামূলক হবে।
নতুন বিধিমালার ‘রিটার্ন হাব’ সংক্রান্ত বিধান দ্রুত কার্যকর হবে। অন্য বিধানগুলো বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে।




















