দেশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
দেশকে অকার্যকর করার জন্য একটি গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রশাসনের অভ্যন্তরে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা, চাঁদাবাজি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
রাস্তায় ছিনতাই, বাড়িতে চুরি-ডাকাতি এবং হত্যা-ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আগের সরকারের সময় সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন এবং তাদের কেউ কেউ সরকারের ভেতরে থেকেই প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি করছেন।
আইনশৃঙ্খলা সামলাতে পুলিশের ওপর চাপ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাধারণ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কাজ করছে পুলিশ।
এর পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর এবং আগের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির বিষয়ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার, পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলাও পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।
সম্প্রতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের পুলিশের ওপর জবাবদিহির চাপও বেড়েছে। কোনো এলাকায় এমন মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তা ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানকে নিয়ে নাহিদের বক্তব্য
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন।
১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন- হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়বেন, নাকি পদত্যাগ করে ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকারে এসে জনগণের মানবাধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে গণতন্ত্রের জন্য যারা আন্দোলন করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সরকারের প্রতি নানা অভিযোগ
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং শিল্প ও কলকারখানার দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের কার্যক্রমের দিকে আরও নজর দেওয়া হোক। একই সঙ্গে সরকারের ভেতরে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।



























