দর্শকনন্দিত টিভি সিরিয়াল 'ইউসুফ-জুলেখা'

5

বিশ্বজুড়ে দর্শকনন্দিত টিভি সিরিয়াল ‘ইউসুফ-জুলেখা’ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রচারিত হচ্ছে, জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল– এসএটিভিতে। বাংলায় ডাবিং করা সিরিয়ালটি পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত মুসলমানদের নবী হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম এবং তার পুত্র ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে নির্মিত। বিশ্বের কয়েকটি ভাষায় সম্প্রচারিত এই সিরিয়ালটি সপ্তাহে পাঁচদিন– রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতি রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সম্প্রচারিত হবে এসএটিভির পর্দায়।

পবিত্র কোরআনে সূরা ইউসুফের বর্ণনা মতে, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাম, তাঁর ছেলে হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেন ইউসুফ।
হযরত ইয়াকুব তার গোত্রের লোকদের কথিত ঈশ্বর ‘ইশতারের’ উপাসনা ছেড়ে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান জানান। লোকেরা তাকে নানাভাবে অপদস্থ করলেও, দমে যাননি তিনি। কিন্তু আল্লাহর দৈব সাহায্যের নিদর্শন দেখে, লোকেরা সাড়া দেন তাঁর আহ্বানে।

ছোটবেলায় ইউসুফের মা মারা যান। সুদর্শন শান্ত স্বভাবের ইউসুফকে বাবা ইয়াকুব আলাইহিস সালাম খুবই ভালোবাসতেন। একারণে সৎ ভাইদের রোষানলে পড়েন ইউসুফ। ভাইয়েরা তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
একটি কুপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয় শিশু ইউসুফকে। বাঘ ইউসুফকে খেয়ে ফেলেছে বলে বাবাকে মিথ্যা কথা বলে সৎ ভাইয়েরা। কিন্তু একটি কাফেলা ইউসুফকে ওই কুয়া থেকে উদ্ধার করে– মিসরের রাজার কাছে বিক্রি করে দেয়।
রাজ দরবারে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন ইউসুফ। তাঁর রুপ, গুণ ও আচার ব্যবহারের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যেজুড়ে। রাজার স্ত্রী জুলেখা, ইউসুফের রুপ ও যৌবনে মুগ্ধ হয়ে তাঁর প্রেমে পড়েন। খবরটি অভিজাত মহলে জানাজানি হলে, শুরু হয় রাণীর সমালোচনা।

রানী একদিন মহিলাদের রাজমহলে আমন্ত্রন জানান। তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি ছুড়ি ও একটি করে ফল দিয়ে সবাইকে ফল কাটার আহবান জানান। এসময় ইউসুফ ওই কক্ষে প্রবেশ করলে– সবাই অবাক হয়ে যান এবং ফলের পরিবর্তে সবাই নিজ নিজ আঙ্গুল কেটে ফেলেন।

কু-প্রস্তাবে ইউসুফ সাড়া না দেয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন রানী। ঘটনাচক্রে জেলে বসে রাজা এবং অন্যান্যের দু’একটি স্বপ্নের সত্য ব্যাখ্যা দেয়ায় তাকে মুক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করেন রাজা। ক্রমে ঘটনা গড়াতে থাকে। একপর্যায়ে পিতা ইয়াকুব সহ তাঁর ভাইদের সাথে মিলন হয় ইউসুফের। এভাবেই সুখ-দুঃখ, ঘাত প্রতিঘাত, প্রেম-ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এগুতে থাকে ইরানের বিখ্যাত এই টিভি সিরিয়াল ‘ইউসুফ পয়গম্বর’ এর কাহিনী।

জনপ্রিয় এই সিরিয়ালটির বাংলায় অনুবাদ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুমিত আল রশিদ। যিনি বর্তমানে ইরানে ডক্টরেট ডিগ্রি করছেন।

সিরিয়ালটিতে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত প্রাচীন শহর বাবেল, কেনান, শাম, মিসরসহ আরব দেশের প্রাচীন ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবেন দর্শকরা। প্রাচীন দাস প্রথা, বাণিজ্যিক ভ্রমণ, খাবার-দাবার সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে এতে।
কোন ধর্মের প্রতি কোনরূপ বিরূপ ধারণা পোষণ বা কোন ধর্মকে আঘাত না করে নির্মিত এই সিরিয়ালটি সব ধরনের দর্শককেই মুগ্ধ করবে বলে আশা– সংশ্লিষ্টদের।

এস. এ. টিভিতে এই সিরিয়ালটি প্রচার নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়ার বিভিন্ন মতামত ও প্রতিক্রিয়া গুলো নিম্নে দেওয়া হলঃ

প্রথম আলোর মতামত ও প্রতিক্রিয়া

কালের কণ্ঠের মতামত ও প্রতিক্রিয়া

জনকণ্ঠের মতামত ও প্রতিক্রিয়া

মানব কণ্ঠের মতামত ও প্রতিক্রিয়া

ইত্তেফাকের মতামত ও প্রতিক্রিয়া

কারেন্ট নিউজ বিডির মতামত ও প্রতিক্রিয়া

ইরান মিররের মতামত ও প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন।

৫টি মন্তব্য

উত্তর দিন

18 − three =

Test