তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা, সিএনজিচালক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৪ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সুমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
অটোরিকশায় উঠে নিখোঁজ তাজমিন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। তার গন্তব্য ছিল নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসা।
তবে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে অটোরিকশাচালক সুমন তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ধানখেতে তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলে চালক সুমনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনাস্থলের পাশে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
বাবার কাছে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমিন
এ ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য হলো, বিপদের মধ্যে পড়েও বাবার কাছে সাহায্য চেয়েছিল তাজমিন। পুলিশ জানায়, অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠায় সে। একই সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়ার আকুতিও জানায়।
তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় মেয়ের পাঠানো বার্তাটি তখন দেখতে পাননি তার বাবা আব্দুল আলীম।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার সুমন
মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে সিএনজিচালক সুমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
পরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করেও তদন্তসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লায় থাকত তাজমিন
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে। তাজমিন স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তবে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতে প্রমাণের বিষয়।




















