তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৯১ বার পড়া হয়েছে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি প্রণয়ন করতে চান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, সবার মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, যা ভবিষ্যতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিতর্কমুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে এবং এতে কারা থাকবেন—এসব বিষয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে মতামত চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে, যা নিয়ে ভবিষ্যতে বিতর্কের সুযোগ কম থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আগের বিধানে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে রাখার বিষয়টি ছিল। এ নিয়ে অতীতে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে না রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত সংগ্রহ করছে বিশেষ কমিটি। বিরোধী রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকেও প্রস্তাব নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শুধু সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করাই নয়, ভবিষ্যতে যেন কেউ সহজে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে না পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গণহত্যার বিচার দ্রুত করার উদ্যোগ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি হলো—মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করা। এ বিচারপ্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলছে এবং নির্ধারিত আইন অনুযায়ী আদালত কাজ করবে।
তদন্ত, প্রসিকিউশন ও অভিযোগ গঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংবিধানে জুলাইয়ের স্বীকৃতির প্রস্তাব
বিশেষ কমিটির বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৬৩ জন অংশ নেন। তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন।
আলোচনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ঘোষণাপত্র সংবিধানের উপযুক্ত অংশে স্থায়ীভাবে যুক্ত করার প্রস্তাবও আসে। পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আইনগত জটিলতা নিরসন এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গণভোটের বিধান নিয়েও প্রস্তাব
বৈঠকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার বিষয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতিতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতিথিদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো কমিটির বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে কারও লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলো যেভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল, সেই ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষায় করা আইন ইতোমধ্যে অধ্যাদেশ থেকে আইনে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার বিষয়টিও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।























