অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে যা বললেন চেয়ারম্যান
ঢাকা মেডিকেলে দুদকের আকস্মিক অভিযান
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও রোগী হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে চিকিৎসাসেবায় নানা অব্যবস্থাপনা দেখতে পেয়েছে সংস্থাটি। এমনকি দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও কয়েকজন চিকিৎসককে নিজ নিজ কক্ষে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদক চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিদর্শন করে। এ সময় রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে আসে।
চিকিৎসকদের কক্ষে পাওয়া যায়নি, ক্ষোভ রোগীর স্বজনদের
অভিযান চলাকালে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও রোগীদের সেবার পরিস্থিতি যাচাই করা হয়।
দুদক চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতালের কয়েকটি বিভাগে গিয়ে প্রত্যাশিত পরিস্থিতি পাওয়া যায়নি। দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কয়েকজনকে তাঁদের কক্ষে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে অনেক কিছু ঠিকঠাক পাইনি। চিকিৎসকদের রুমে পাইনি আমরা। জরুরি বিভাগে ডা. তানভীর থাকার কথা, তিনি নেই। নিউরো সার্জনকে রুমে পাইনি আমরা।’
এদিকে অভিযান চলাকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর স্বজন দুদক কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকদের অপেক্ষায় থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের।
হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ দুদক চেয়ারম্যানের
পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন দুদক চেয়ারম্যান। তাঁর ভাষায়, হাসপাতালটির সেবার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।
তিনি বলেন, ‘এখানে রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। একেবারে বেহাল অবস্থা। পরিচালককে বলেছি বিষয়গুলো দেখার জন্য। হাসপাতালে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দুদক চেয়ারম্যান আরও জানান, হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওষুধ সরবরাহ ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ জমা পড়ছিল। বিশেষ করে সরকারি ওষুধ সরবরাহ ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিতে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং হাসপাতালের প্রকৃত পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে দুদক এ আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযানের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
দুদক চেয়ারম্যানের পর্যবেক্ষণ ও উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সারা দেশের হাসপাতালসহ সেবাখাতে অভিযান চালাবে দুদক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সারা দেশে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নয়, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালসহ সব ধরনের সেবাখাতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
দুদকের এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথ সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
























