জিডিপি প্রবৃদ্ধি সুতা-ছেঁড়া ভোকাট্টা ঘুড়ির মতো হয়ে পড়েছে

0

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সুতা-ছেঁড়া ভোকাট্টা ঘুড়ির মতো হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির অন্যান্য সব উপাদানের সাথে এখন এর কোনো বাস্তব মিল কিংবা নিয়ন্ত্রণ নেই। অর্থনীতির স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো ডক্টর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দেশে প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক উন্নয়নের যে উপাখ্যান তৈরি হয়েছে, তা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যে কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্রমাগত দুর্বল অবস্থানে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চার খাত- রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার এবং বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ে পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান- সিপিডি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুশাসনের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির এই খাতগুলো ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে সামষ্টিক অর্থনীতিতে।

সিপিডি জানায়, আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায় কমে গেছে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নেও নেই কোন অগ্রগতি। সুশাসনের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক দূর্বলতায় দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি পুঁজিবাজার। লাখ লাখ ভুয়া বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ।

সংস্থাটির গবেষণা বলছে, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকির মুখে। অর্থ মন্ত্রণালয়সহ প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বৈদেশিক বাণিজ্য ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে।

সার্বিক মূল্যায়নে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক উন্নয়নের উপাখ্যানের সাথে বাস্তবতার মিল নেই। প্রকৃত তথ্যের লুকোচুরিতে সরকারই সবচে’ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মত দেন তিনি।

প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলো নিয়ে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তাতে দ্রুত সংস্কারের পদক্ষেপ না নিলে মধ্যআয়ের দেশের স্বপ্ন দুস্বপ্নে পরিণত হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। 

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন