০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানে রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অষ্টম টাঙ্গাইলের ঈশমাম মুবীন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাপানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ‘ইউনিভার্সাল রোবটিক্স চ্যালেঞ্জ (URC) ২০২৬’-এ অষ্টম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিপ্রেমী ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সন্তান ঈশমাম মুবীন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিযোগিতার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের ওসাকা শহরের ঐতিহাসিক OMM Building Exhibition Hall-এ অনুষ্ঠিত হয় URC-এর ১০ম আসর। এবারের আয়োজনে বিশ্বের ৩৪টি দেশ থেকে ১৪৫টি প্রতিদ্বন্দ্বী দল অংশ নেয়। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেও নিজের উদ্ভাবনী চিন্তা, রোবট পরিচালনার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় দেন ঈশমাম।

‘রোবট দিয়ে উদ্ধারকাজ’ ছিল প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য

Artec Educational Foundation-এর উদ্যোগে আয়োজিত এবারের URC প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “Robots to the Rescue”। অর্থাৎ, দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে রোবট ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রোবট কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে সেই সক্ষমতা যাচাই করা হয়। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্ধারিত চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়।

ঈশমামও এসব চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অষ্টম স্থান অর্জন তাঁর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

৩৪ দেশের ১৪৫ দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা

URC ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণরা অংশ নেন। মোট ১৪৫টি দল নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ছিল রোবটিক্স, কোডিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের নানা চ্যালেঞ্জ।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শুধু রোবট তৈরি করলেই হয় না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোবটকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত মোকাবিলা করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। ঈশমামের অষ্টম স্থান অর্জন তাই তাঁর ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পরিচয় বহন করে।

মির্জাপুরের তরুণের আন্তর্জাতিক অর্জন

ঈশমাম মুবীন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সন্তান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর এই সাফল্যে নিজ এলাকা ও পরিবারের মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের মধ্যেও তাঁর অর্জন উৎসাহ তৈরি করেছে।

রোবটিক্স বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। শিল্পকারখানা, চিকিৎসা, মহাকাশ গবেষণা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রোবটিক্স ও কোডিংয়ের আগ্রহ তৈরি করাকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিবারে আনন্দের আবহ

ঈশমাম মুবীন কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের অধ্যাপক দেওয়ান আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ওয়ান ব্যাংকের ম্যানেজার লিলি আক্তারের দ্বিতীয় সন্তান।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে অষ্টম স্থান অর্জনের খবর পাওয়ার পর তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঈশমামের এই সাফল্যে গর্বিত। তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

ঈশমাম মুবীনের এই অর্জন শুধু একটি আন্তর্জাতিক রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি, রোবটিক্স ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরিতেও এ ধরনের সাফল্য ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপানে অনুষ্ঠিত URC ২০২৬-এ ৩৪ দেশের ১৪৫টি দলের মধ্যে অষ্টম হয়ে ঈশমাম মুবীন বাংলাদেশের জন্য যে অর্জন বয়ে এনেছেন, তা দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিচর্চায় নতুন উৎসাহ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জাপানে রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অষ্টম টাঙ্গাইলের ঈশমাম মুবীন

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ‘ইউনিভার্সাল রোবটিক্স চ্যালেঞ্জ (URC) ২০২৬’-এ অষ্টম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিপ্রেমী ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সন্তান ঈশমাম মুবীন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিযোগিতার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের ওসাকা শহরের ঐতিহাসিক OMM Building Exhibition Hall-এ অনুষ্ঠিত হয় URC-এর ১০ম আসর। এবারের আয়োজনে বিশ্বের ৩৪টি দেশ থেকে ১৪৫টি প্রতিদ্বন্দ্বী দল অংশ নেয়। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেও নিজের উদ্ভাবনী চিন্তা, রোবট পরিচালনার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় দেন ঈশমাম।

‘রোবট দিয়ে উদ্ধারকাজ’ ছিল প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য

Artec Educational Foundation-এর উদ্যোগে আয়োজিত এবারের URC প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “Robots to the Rescue”। অর্থাৎ, দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে রোবট ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রোবট কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে সেই সক্ষমতা যাচাই করা হয়। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্ধারিত চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়।

ঈশমামও এসব চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অষ্টম স্থান অর্জন তাঁর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

৩৪ দেশের ১৪৫ দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা

URC ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণরা অংশ নেন। মোট ১৪৫টি দল নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ছিল রোবটিক্স, কোডিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের নানা চ্যালেঞ্জ।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শুধু রোবট তৈরি করলেই হয় না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোবটকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত মোকাবিলা করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। ঈশমামের অষ্টম স্থান অর্জন তাই তাঁর ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পরিচয় বহন করে।

মির্জাপুরের তরুণের আন্তর্জাতিক অর্জন

ঈশমাম মুবীন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সন্তান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর এই সাফল্যে নিজ এলাকা ও পরিবারের মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের মধ্যেও তাঁর অর্জন উৎসাহ তৈরি করেছে।

রোবটিক্স বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। শিল্পকারখানা, চিকিৎসা, মহাকাশ গবেষণা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রোবটিক্স ও কোডিংয়ের আগ্রহ তৈরি করাকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিবারে আনন্দের আবহ

ঈশমাম মুবীন কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের অধ্যাপক দেওয়ান আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ওয়ান ব্যাংকের ম্যানেজার লিলি আক্তারের দ্বিতীয় সন্তান।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে অষ্টম স্থান অর্জনের খবর পাওয়ার পর তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঈশমামের এই সাফল্যে গর্বিত। তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

ঈশমাম মুবীনের এই অর্জন শুধু একটি আন্তর্জাতিক রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি, রোবটিক্স ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরিতেও এ ধরনের সাফল্য ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপানে অনুষ্ঠিত URC ২০২৬-এ ৩৪ দেশের ১৪৫টি দলের মধ্যে অষ্টম হয়ে ঈশমাম মুবীন বাংলাদেশের জন্য যে অর্জন বয়ে এনেছেন, তা দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিচর্চায় নতুন উৎসাহ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।