জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ

0

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে । সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের-শিরোনামে প্রস্তাবিত এবার বাজেটকে একটি স্মার্ট বাজেট নামে আখ্যা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নিজেই। অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধিকে আগামী তিন বছরে ৮ দশমিক ৬ শতাংশের ঘরে নেয়ার স্বপ্নও দেখিয়েছেন জাতিকে। অর্থমন্ত্রীর অসমাপ্ত বাজেট বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান করে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্বের শীর্ষ চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে জাতীয় সংসদে বিকাল ৩টার কিছু সময় পর বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তুলে ধরেন বাঙালী জাতির অতীত ইতিহাস সম্বলিত প্রামান্যচিত্রও।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেটে খরচের যে হিসাব ধরেছেন, তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮.১ শতাংশের সমান। নতুন বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর–বহির্ভূত করব্যবস্থা থেকে আসবে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করে রাখা হয়েছে। বরাবরের মতো আগামী বাজেটের ঘাটতিও থাকছে জিডিপির ৫ শতাংশ। মোট ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

বাজেটে ব্যয় মোকাবেলায় রাজস্ব আদায়ের চাপ আদায়ের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধিকে আগামী তিন বছরে ৮ দশমিক ৬ শতাংশের ঘরে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বিশাল ব্যয়কে মেলাতে গিয়ে উচ্চ রাজস্ব আদায়ের হিসেবও করেছেন তিনি। যে ধারা বজায় থাকলে ২০২১-২২ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধিকে টেনে নিতে চান ৮ দশমিক ৬ শতাংশে।

পরে তিনি অসুস্থতাবোধ করলে তার পক্ষে বাজেটের বাকি অংশ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই । বাজেট বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান করে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্বের শীর্ষ চুড়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।

বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ধরা হয় ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।

সম্পদের ব্যাবহার হবে যেবাবে তা হলো – শিক্ষা ও প্রযুতি খাতে ১৫.২ শতাংশ, সুদ বাবদ ব্যয় হবে ১০.৯ শতাংশ, পরিবহনও যোগাযোগে ১২.৪, স্থানীয় সরকার ও পল্লীউন্নয়নে ৭.২, জ্বালানী ও বিদ্যুত ৫.৪, স্বাস্থ ৪.৯, কৃষি ৫.৪, প্রতিরক্ষায় ৬.১ শতাংশ, জনপ্রশাসনে ১৮.৫ শতাংশ, সামাজিক নিরপত্তায় ৫.৬, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ৫.৩, গৃহায়নে ১.৩, বিনাদনে ০.৯, শিল্পও অর্থনৈতিক সার্ভিসে ০.৭ ও বিবিধ ব্যয় হবে ০.২ শতাংশ টাকা।

তবে সরকারের একটা বড় অংশ ব্যায় হবে সরকারের বেতন ভাতা, অবসর সুবিধা ও সুদের টাকা পরিশোধে। বেতন ভাতায় ব্যায় হবে ৬০হাজার ১০৯ কোটি টাকা। পন্য সরবরাহও সেবায় ব্যায় হবে ৩১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। সুদ পরিশোদ করতে হবে ৫৭ হাজার ৬৮ কোটি টাকার মতো।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন