জাতিসংঘে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস

0

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিধনযজ্ঞে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস হয়েছে। এসময় মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন জানান রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতায় গণহত্যার আলামত খতিয়ে দেখতে মানবাধিকার কাউন্সিলকে তদন্ত শুরু করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ৪৫ সদস্যের মধ্যে ৩৩ দেশের প্রতিনিধি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তিনটি দেশ। বরাবরের মতো চীন মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। বিপক্ষে ভোট দেয়া অন্য দেশ দুটি হলো–ফিলিপাইন ও বুরুন্ডি। ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলো ভারতসহ ন’টি দেশ। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সেনা অভিযান বন্ধ করা সহ হত্যাযজ্ঞের মুখে মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন জানান, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতায় গণহত্যার আলামত ও অভিযোগের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না।

”রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা ব্যাপক, পর্যায়ক্রমিক এবং হতাশাজনক। এটা কয়েক দশকের মধ্যে সবচে’ বৈষম্যমূলক নিপীড়ন। এর সুষ্ঠু আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি যথাযথ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ শেষ না করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। ”জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশমালা পাঠাতে হবে। অভিযোগের তীব্রতার প্রেক্ষিতে একটি পক্ষপাতহীন, নিরপেক্ষ ‘মেকানিজম’ প্রতিষ্ঠা করা দরকার। যাতে করে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পাশাপাশি তারা সবশেষ সহিংসতা ও নির্যাতনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত করতে পারে।”

এসময় অধিবেশনে যোগ দেয়া জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি–হতিন লিন উপস্থিত প্রতিনিধিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তবে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

”বাংলাদেশ সীমান্তে মানবাধিকার পরিস্থিতি তার দেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এই সংকট নিরসনে ইয়াঙ্গুন সব ধরনের চেষ্টা করছে। রাখাইনে তাদের ঘরবাড়ি পুন:নির্মানের পর তাদের সেখানে ফেরত নেয়া হবে। ”

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অনুরোধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ এই অধিবেশনটি ডাকা হয়।

শেয়ার করুন।