০৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় দিনে-রাতে লোডশেডিংএ ৫০ হাজার গ্রাহক অতিষ্ট

বিপুল আশরাফ, চুয়াডাঙ্গা
  • আপডেট সময় : ০২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গায় দিনে-রাতে লোডশেডিংএ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। লোডশেডিং এ কবলে পড়ে ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন। চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকো আওতায় ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার স্থলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে ১৭ মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি সারা দেশে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদরের প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৫ মেগাওয়াট এবং আলমডাঙ্গায শহরে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে মিলছে ২ থেকে ৩ মেগাওয়াট। বিশাল এই ঘাটতির কারণে শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে নিয়মিত লোডশেডিং করা হচ্ছে। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে জেলা সদরে বিদ্যুতের দৈনিক মোট চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। যার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২৫ শতাংশ ঘাটতি থাকছে। একই সাথে আলমডাঙ্গার চারটি ফিডারে পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা থাকলেও সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র দুই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।  যা সামাল দিতে গিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর আওতায় বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও সদর এলাকায় মোট ৪৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৩৮ হাজার ৩০০ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৫ হাজার ২৫০ জন এবং সি.এস (কন্টিনিউয়াস সাপ্লাই) বা কৃষি ভিত্তিক গ্রাহক ১৬৬ জন।  চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও আশপাশে মোট ১২টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। এগুলো হলো হাসপাতাল, কলেজ, বড়বাজার, হাজরাহাটি-১, হাজরাহাটি-২, বিজিবি ক্যাম্প, সার্কিট হাউস, জেলা পরিষদ, বিএডিসি, নিউমার্কেট, বিসিক ও দিগড়ী ফিডার। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আলমডাঙ্গা উপজেলার ৪টি ফিডারেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই বিশাল গ্রাহকগোষ্টীকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে একদিকে যেমন বাসাবাড়িতে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে শিল্প কারখানা, ‘বিসিক’ শিল্প নগরী ও ‘বড়বাজার’-এর মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের অবস্থা আরো নাজুক।

বিদ্যুৎ গ্রাহক আবু সাঈদ বলেন, প্রতি এক ঘণ্টা পর, দেড় ঘন্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গাতে গরমের তীব্রতা অনেক বেশি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সত্বেও, আমরা যদি চাহিদা মত বিদ্যুৎ না পাই তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে না। আমরা চাই আমাদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হোক।

এ বিষয়ে ওজোপডিকোর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট হলেও গ্রিড থেকে সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। যে ৫ মেগাওয়াটের ঘাটতি থাকছে, তা বাধ্য হয়েই ফিডারগুলোর মধ্যে অদল-বদল (রোটেশন) করে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হচ্ছে। আলমডাঙ্গায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করতে হচ্ছে দুই মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপডিকো এবং ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে সরবরাহ করা হয়

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চুয়াডাঙ্গায় দিনে-রাতে লোডশেডিংএ ৫০ হাজার গ্রাহক অতিষ্ট

আপডেট সময় : ০২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় দিনে-রাতে লোডশেডিংএ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। লোডশেডিং এ কবলে পড়ে ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন। চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকো আওতায় ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার স্থলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে ১৭ মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি সারা দেশে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদরের প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৫ মেগাওয়াট এবং আলমডাঙ্গায শহরে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে মিলছে ২ থেকে ৩ মেগাওয়াট। বিশাল এই ঘাটতির কারণে শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে নিয়মিত লোডশেডিং করা হচ্ছে। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে জেলা সদরে বিদ্যুতের দৈনিক মোট চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। যার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২৫ শতাংশ ঘাটতি থাকছে। একই সাথে আলমডাঙ্গার চারটি ফিডারে পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা থাকলেও সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র দুই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।  যা সামাল দিতে গিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর আওতায় বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও সদর এলাকায় মোট ৪৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৩৮ হাজার ৩০০ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৫ হাজার ২৫০ জন এবং সি.এস (কন্টিনিউয়াস সাপ্লাই) বা কৃষি ভিত্তিক গ্রাহক ১৬৬ জন।  চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও আশপাশে মোট ১২টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। এগুলো হলো হাসপাতাল, কলেজ, বড়বাজার, হাজরাহাটি-১, হাজরাহাটি-২, বিজিবি ক্যাম্প, সার্কিট হাউস, জেলা পরিষদ, বিএডিসি, নিউমার্কেট, বিসিক ও দিগড়ী ফিডার। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আলমডাঙ্গা উপজেলার ৪টি ফিডারেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই বিশাল গ্রাহকগোষ্টীকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে একদিকে যেমন বাসাবাড়িতে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে শিল্প কারখানা, ‘বিসিক’ শিল্প নগরী ও ‘বড়বাজার’-এর মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের অবস্থা আরো নাজুক।

বিদ্যুৎ গ্রাহক আবু সাঈদ বলেন, প্রতি এক ঘণ্টা পর, দেড় ঘন্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গাতে গরমের তীব্রতা অনেক বেশি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সত্বেও, আমরা যদি চাহিদা মত বিদ্যুৎ না পাই তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে না। আমরা চাই আমাদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হোক।

এ বিষয়ে ওজোপডিকোর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট হলেও গ্রিড থেকে সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। যে ৫ মেগাওয়াটের ঘাটতি থাকছে, তা বাধ্য হয়েই ফিডারগুলোর মধ্যে অদল-বদল (রোটেশন) করে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হচ্ছে। আলমডাঙ্গায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করতে হচ্ছে দুই মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপডিকো এবং ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে সরবরাহ করা হয়