চিংড়ী চাষে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে আধুনিক প্রযুক্তির আধানিবিড় পদ্ধতি

0

খুলনাঞ্চলে সাদাসোনা খ্যাত চিংড়ী চাষে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে আধুনিক প্রযুক্তির আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ। ইতিমধ্যেই আধুনিক এ পদ্ধতির চিংড়ী চাষ শুরু করেছেন অনেক চাষী। সনাতন পদ্ধতিতে মাত্র তিন থেকে চারশো কেজি চিংড়ী উৎপাদিত হলেও আধুনিক এই পদ্ধতিতে উৎপাদন হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। অধিক লাভের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও হচ্ছে অনেকের। তাই বিনাসুদে ব্যাংক ঋণ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ সরকারের সহযোগীতা পেলে আগামী ১০ বছরে চিংড়ী খাতে রপ্তানি আয় ছয়-সাতগুণ বৃদ্ধির প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

দেশের চিংড়ী রপ্তানীর শতকরা আশি ভাগই সরবরাহ হয় খুলনাঞ্চলের চিংড়ী ঘের থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলের চাষীরা সনাতন পদ্ধতির চাষে ধারাবাহিকভাবে ভাইরাসসহ নানা কারণে মারাত্নক ক্ষতির শিকার হয়। এতে অনেকে চিংড়ী চাষ থেকে মুখ ফিরিযে নেয়। এই অবস্থায় মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে বাগদা চিংড়ী সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আধুনিক পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ শুরু হয়।

গত পাঁচ বছরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলায় দশ হাজার হেক্টর জমিতে ছয় শতাধিক আধুনিক প্রযুক্তির আধানিবিড় পদ্ধতির চিংড়ী খামার গড়ে উঠেছে। প্রতি হেক্টর ঘেরে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ছয় থেকে সাত হাজার কেজি চিংড়ী। যা সনাতন চাষের তুলনায় ৮-১০ গুণ বেশি। এতে অধিক লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের।

চাষীদের অভিযোগ, আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ অনেক সম্ভাবনাময় হলেও কারিগরি জ্ঞান ও পুজির অভাবে এই পদ্ধতির চাষ শুরু করতে পারছেন না বেশিরভাগ চাষীরা।

চিংড়ী ঘেরের আধুনিকায়ণে কৃষকদের উৎসাহিত করতে ধারাবাহিক চেষ্টার কথা জানান মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

তবে চিংড়ী সেক্টরের আধুনিকায়ণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হলে মিলেনিয়াম টার্গেট ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পুরণ সম্ভব বলে মনে করছেন রপ্তানীকারকরা।

খুলনাঞ্চলের চিংড়ী চাষকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা, স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় আধুনিক পদ্ধতির আওতায় আনা গেলে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন