ধারাবাহিক নাটক ‘ঘোড়ার চাল আড়াই ঘর’

0

রচনাও পরিচালনা: বদরুল আনাম সৌদ
প্রচারিত: প্রতি (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায়
অভিনয়: সুবর্ণা মুস্তাফা, সাজু খাদেম, সানজিদা প্রীতি, শাহাদাৎ হোসেন, শ্রিয়া জাকের, জিতু আহসান, অর্ণিলা গুহ, নাজিবা বাশার, মাজনুন মিজান, প্রাণ রায়

কাহিনী সংক্ষেপ:
আকাশের প্রেমের বয়স তিনদিন। এবং এই তিনদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয় সে, তিথী’কেই বিয়ে করতে হবে তার, নতুবা তার জীবন বৃথা। এমন না যে আকাশের জীবনে এটাই প্রথম প্রেম। আগে বহুবার প্রেমে পড়েছে সে কিন্তু সেইসব প্রেমের ক্ষেত্রে কখনো ঠিক এই ধরনের উত্তেজনা বা অস্থিরতা অনুভব করেনি সে। পাগল পাগল ঠেকে তার। আর পাগল পাগল ঠেকাটাও স্বাভাবিক। কারন তিথী’কে যতটা সুস্থ বলা যায়, তার চেয়ে বেশী পাগল বলা যায়। তিনদিন পেরিয়ে চতুর্থ দিন সকালে বিয়ে করে ফেলে আকাশ তিথী, বাড়ির কাউকে না জানিয়ে। বিয়ের পর এবার পরিবারকে জানানোর পালা। আকাশের পরিবার থাকে বাইরে তাই ফোনে সেইকর্মটি সেরে ফেলা যায়, কিন্তু তিথী’র পরিবার ঢাকায়। তাদের মুখোমুখি তো হতেই হবে। আকাশ তিথী মুখোমুখি হয় তিথী’র বাবা মা’র।তিথী’র বাবা মা’র হাজার ধরনের প্রশ্ন এবং তার মাঝে কিছু আবার বিব্রত কর। বিয়েটা করা হয়ে গেছে, এই মূহুর্তে আর কিছুই করবার নেই দেখে আকাশ তিথী’র বিয়েটা মেনে নেয় তারা। আকাশ এতদিন ধরে জানতো, ভালো লেখক হিসেবে বেশ সুখ্যাতি আছে তার, কিন্তু আজ জানতে পারে, বিয়ের বাজারে লেখকরা প্রায় অচল। বর হিসেবে লেখকের চেয়ে, সরকারী অফিসের কেরানী ও আকাংক্ষিত। শুধুমাত্র একটাই গুন আছে তার, মানুষটা সে লম্বা। আর শুধু এই কারনেই তিথী’র মাতাকে বিশেষ অপছন্দ করতে পারেননি। আটত্রিশ বছর বয়সী আকাশ প্রায় বিশ বছর ধরেই একা। তাই পরিবার কেন্দ্রিক জটিলতা মাথায় ছিলো না তার। প্রথমত শ্বশুড় বাড়ির পাশে বাড়ি হতে হবে, তাতে মেয়ের যাওয়া আসার সুবিধা। দ্বিতীয়ত সালা নামক এক যন্ত্রণা রয়েছে। যন্ত্রণাই বলতে হচ্ছে, কারন যখন তখন সে যেকোন কিছু আবদার করে বসছে। বিয়ের পরের দিনই সে আকাশের কাছে মোটরবাইক চেয়ে বসেছে। আকাশ জানতো ছেলেরা যৌতুক নেয়, কিন্তু যৌতুক যে তার দিতে হবে এই বিষয়ে তার কোন প্রকারই ধারনা ছিলোনা। আর তৃতীয় দিনের মাথায় বুঝতে পারে, বিয়ে করাটাই ভুল হয়েছে তার। তিথী সারাক্ষনই বকবক করে চলে, তাই একমূহুর্ত কোনকিছু শান্তিমত চিন্তা করা সম্ভব হচ্ছে না আকাশের পক্ষে।

এই অবস্থায় দিন যায়, আকাশের যত হাঁস ফাঁস লাগে, ততই যেনো তিথী’র প্রেমবাড়ে।এমনকি আকাশ ওয়াশরুমে গেলে তিথী বাইরে দাড়িয়ে তার সঙ্গে কথা বলে। এভাবে দিন যায়, ধীরে ধীরে আকাশ অভ্যস্থ হয় এই জীবনে। অবস্থা এমন হয়ে দাড়ায়, তিথী কোন কারনে যদি ৩ সেকেন্ড চুপ করে থাকে, আকাশের মনে হয় কোথাও কোন সমস্যা হয়েছে। ও তিথী’র বাবা মা’র কথা তো আর বলাই হলো না। তিথীর বাবা’র নাম আনসারুল হক, মায়ের নাম শায়লা হক। এই দুইজন প্রয়োজন অপ্রয়োজনে হাজির হয় আকাশদের বাড়িতে, অথবা আকাশ আর তিথী’কে নিয়ে যায় তাদের বাড়িতে। কখনও কখনও এমন হয়, আকাশ ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারে না সে কোন বাড়িতে আছে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন