ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে
- আপডেট সময় : ১২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেশে মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনামাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্যবিজ্ঞান ভবনের প্রফেসর মোহাম্মদ শফি অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মৎস্য খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফিসারিজ সেক্টরের পরিধি অনেক বড়। এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও ব্যাপক। একসময় মানুষ মৎস্য খাতকে তেমন গুরুত্ব দিত না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণা পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাত আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং মৎস্যসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মানুষকে মাছ চাষে উৎসাহিত করেছিলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় মৎস্য পক্ষের সূচনা করেন। পরবর্তীতে দেশনায়ক তারেক রহমান মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
নদীর নাব্যতা ও দূষণ নিয়ে পদক্ষেপ
দেশের নদ-নদীর নাব্যতা ও দূষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেছে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণে সক্ষম হলে দেশের অর্থনীতিতে এ খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
মৎস্য শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে মৎস্য খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্র ও জীবন গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এ খাতে নিজেদের এগিয়ে নিতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশও বর্তমানে মৎস্য খাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, মৎস্য খাত সম্পর্কে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে এর সম্ভাবনা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে মৎস্য শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদা হক। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওয়ায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
আলোচনা সভায় মৎস্য খাতের অবদান, মৎস্যবিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।























