০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর গত আট মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এফ-৩৫ ও এফ-১৫

কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) নতুন এক প্রতিবেদনের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর মধ্যে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ ফাইটার রয়েছে।

এ ছাড়া ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি এফ-১৫ গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় ভূপাতিত হয়। প্রতিটি বিমানের মূল্য ৩ কোটি ডলারের বেশি। পরবর্তী সময়ে ইরানের আকাশেও একটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়।

গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই ফাইটার জেট সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে মেরামতের পর বিমানগুলো আবার কাজে ফিরেছে।

৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার।

নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—দুই ধরনের কাজেই এসব মাল্টিরোল ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মার্কিন বিমানবাহিনীর এক জেনারেল গত মে মাসে সিনেটকে জানিয়েছিলেন, ক্ষয়ক্ষতির কারণে রিপার ড্রোনের সংখ্যা কমে ১৩৫টিতে নেমে এসেছে।

এয়ার ফোর্স টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো সময় মোতায়েন করা সম্ভব এমন অন্তত ১৮৯টি রিপার ড্রোন প্রস্তুত থাকার কথা ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেই সংখ্যা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

এফ-৩৫ ও ই-৩ সেন্ট্রিও ক্ষতিগ্রস্ত

সিআরএসের বিশ্লেষণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। গত ১৯ মার্চ ইরানের হামলার মুখে পড়ে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পুরোনো হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানটি বোয়িং ৭০৭ যাত্রীবাহী বিমানের নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের তালিকা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টারের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, দুটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ হেলিকপ্টার।

এ ছাড়া একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, তিনটি এমকিউ-১ মাল্টিরোল ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

যুদ্ধের ব্যয়ও বাড়ছে

শুধু সামরিক সরঞ্জাম হারানো নয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। গত মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে এই ব্যয় বেড়েছে ৫০০ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, অস্ত্রের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ও বেড়েছে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অস্ত্র ব্যয় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার দেখানো হয়েছিল। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সেন্টকমের হিসাবে তা বেড়ে ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইরান যুদ্ধে ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর গত আট মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এফ-৩৫ ও এফ-১৫

কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) নতুন এক প্রতিবেদনের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর মধ্যে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ ফাইটার রয়েছে।

এ ছাড়া ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি এফ-১৫ গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় ভূপাতিত হয়। প্রতিটি বিমানের মূল্য ৩ কোটি ডলারের বেশি। পরবর্তী সময়ে ইরানের আকাশেও একটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়।

গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই ফাইটার জেট সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে মেরামতের পর বিমানগুলো আবার কাজে ফিরেছে।

৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার।

নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—দুই ধরনের কাজেই এসব মাল্টিরোল ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মার্কিন বিমানবাহিনীর এক জেনারেল গত মে মাসে সিনেটকে জানিয়েছিলেন, ক্ষয়ক্ষতির কারণে রিপার ড্রোনের সংখ্যা কমে ১৩৫টিতে নেমে এসেছে।

এয়ার ফোর্স টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো সময় মোতায়েন করা সম্ভব এমন অন্তত ১৮৯টি রিপার ড্রোন প্রস্তুত থাকার কথা ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেই সংখ্যা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

এফ-৩৫ ও ই-৩ সেন্ট্রিও ক্ষতিগ্রস্ত

সিআরএসের বিশ্লেষণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। গত ১৯ মার্চ ইরানের হামলার মুখে পড়ে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পুরোনো হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানটি বোয়িং ৭০৭ যাত্রীবাহী বিমানের নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের তালিকা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টারের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, দুটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ হেলিকপ্টার।

এ ছাড়া একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, তিনটি এমকিউ-১ মাল্টিরোল ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

যুদ্ধের ব্যয়ও বাড়ছে

শুধু সামরিক সরঞ্জাম হারানো নয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। গত মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে এই ব্যয় বেড়েছে ৫০০ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, অস্ত্রের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ও বেড়েছে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অস্ত্র ব্যয় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার দেখানো হয়েছিল। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সেন্টকমের হিসাবে তা বেড়ে ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।