ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল কলম্বিয়া
- আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে কলম্বিয়া। দেশটির সরকার জানিয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ‘গোলার্ধীয় জাতীয় নিরাপত্তা’ বিবেচনায় নিয়ে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোগোতা।
কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত ৭ আগস্ট বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছিলেন দে লা এসপ্রিয়েলা।
নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগ কলম্বিয়ার
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে কলম্বিয়া সরকার। বোগোতার অভিযোগ, ইরান সরকারের সঙ্গে এমন কিছু ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ যোগাযোগ রয়েছে, যারা কলম্বিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি কলম্বিয়া সরকার। ফলে ইরানের সঙ্গে কথিত এসব যোগাযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কলম্বিয়ার সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি শুধু দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট বলে মনে করছে বোগোতা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত নিয়েও সমালোচনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়েও তেহরানের সমালোচনা করেছে কলম্বিয়া। দেশটির সরকারের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত।
বোগোতার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয়ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কনস্যুলার সম্পর্ক বজায় থাকবে
তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও ইরানের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করছে না কলম্বিয়া। দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলার সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে দুই দেশের নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে। ভিসা, নাগরিক সহায়তা ও অন্যান্য কনস্যুলার বিষয়ে যোগাযোগের সুযোগও পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার অর্থ সাধারণত দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও দূতাবাসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসা। তবে কনস্যুলার সম্পর্ক বহাল থাকায় নাগরিকসেবা চালু রাখার একটি কাঠামো থাকবে।
কিউবা-নিকারাগুয়া নিয়েও পরিকল্পনা
এর আগে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা কিউবা ও নিকারাগুয়ার বামপন্থী সরকারের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে এখন পর্যন্ত কিউবা ও নিকারাগুয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি কলম্বিয়া। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর দেশটির নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে আরও কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পাওয়ায় লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কলম্বিয়ার কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে কিউবা ও নিকারাগুয়ার বিষয়ে কলম্বিয়া সরকার এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সূত্র: বাসস

























