আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৭২৯ বার পড়া হয়েছে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ব্যবধানে শেষ করে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দীর্ঘ সফর শেষে ক্রিকেটাররা কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেলেও খুব বেশি সময় অবসর কাটানোর সুযোগ নেই। অক্টোবরের শুরুতেই আবার ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতে ফিরতে হবে টাইগারদের।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে জাতীয় দলের সামনে এখন সাদা বলের ক্রিকেট। সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের আলোচনা থাকলেও সেটি শেষ পর্যন্ত না হলে ওই সময়টায় স্কিল ক্যাম্পে মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি
সূত্র জানায়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ম্যাচগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়ানডে ম্যাচগুলো সামনে রেখে নিজেদের দল ও কৌশল নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও মাথায় রাখা হচ্ছে এই সিরিজে।
টেস্ট সিরিজটি অবশ্য ওয়ানডে লড়াইয়ের আগে বা পরে আয়োজন করা হতে পারে। এ নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভেন্যু ও ম্যাচের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে যোগ হতে পারে জিম্বাবুয়ে
এদিকে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডে সিরিজে নতুন দল হিসেবে যোগ হতে পারে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ে অংশ নিতে সম্মতি দিলে দুই দলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি রূপ নেবে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে।
বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, জিম্বাবুয়ের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছেন আয়োজকরা। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে অক্টোবরের শুরুতেই বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে তিন দলের ওয়ানডে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হতে পারে।
ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। ফলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগও বাড়বে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ক্রিকেটারদের পরখ করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বাড়তি সুযোগ
বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য এই ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্ব আরও বেশি। সামনে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থাকায় নিয়মিত ওয়ানডে খেলার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে টিম ম্যানেজমেন্ট। ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং ও দলীয় কম্বিনেশন নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে ক্রিকেটাররা কিছুটা বিশ্রাম পাবেন। এরপর স্কিল ক্যাম্পের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করবেন তারা। সেই প্রস্তুতির পর আফগানিস্তান ও সম্ভাব্য ত্রিদেশীয় সিরিজে মাঠে নামলে দলের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো আরও স্পষ্ট হবে।
জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত যোগ দিলে বাংলাদেশ একসঙ্গে দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাবে। এতে ম্যাচ পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সিরিজের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতাও যাচাই করা যাবে।
সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরের সূচি চূড়ান্ত না হলেও অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা বাড়ছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের পাশাপাশি ত্রিদেশীয় সিরিজ যুক্ত হলে সেই ব্যস্ততা আরও বাড়বে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই ম্যাচগুলোই বাংলাদেশের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
























