৬ ঘণ্টার পর স্বাভাবিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ১৫০ কারখানায় ছুটি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গাজীপুর। প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর বিজিবি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও নাওজোর এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
এতে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের মানুষ।
পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ
সকাল থেকে চলা অবরোধের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন। শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরা। দায়িত্ব পালনকালে সময় টিভির একজন রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় তাদের ক্যামেরা। এছাড়া এসএ টিভির একজন ক্যামেরাপারসনও হামলায় পায়ে আঘাত পান।
দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা
শ্রমিক বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলেও। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে শিল্পাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, সোমবারও শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান
দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর দুপুর ১টার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বর্তমানে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান করছেন না। তবে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।























