সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬২ বার পড়া হয়েছে
শ্রমিকদের আন্দোলন ও দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পক্ষ শ্রমিকদের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে। এমনকি শিল্পকারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাত রক্ষায় এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ড শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে। তাই শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মজুরি বোর্ড করে দিয়েছি, তারা ঠিক করবে বেতন কাঠামো।’
শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ
শ্রমিকদের দাবিকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর চালিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দাবির আড়ালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক দেশের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা কারখানা ভাঙচুর করেছে। যারা ১৬ বছর মানুষের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারেনি, তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা করছে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্পকারখানা ও উৎপাদনব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এসব কারখানার সঙ্গে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি জড়িত।
শিল্পকারখানা রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
মিল-কারখানাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘মিল-কল কারখানা দেশের সম্পদ। এটি ধ্বংস হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। সীমান্তের ওপার থেকে এগুলো ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। এদের প্রতিহত করতে হবে। জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।
শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে বন্ধ কারখানা চালু করা এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।
তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্যেই তিনি দুই সপ্তাহের মধ্যে দুইবার এ অঞ্চলে এসেছেন। বাগেরহাট থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় হাজার হাজার শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি জানান, শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য শিল্পকারখানার পরিবেশ ও বিনিয়োগের উপযোগী পরিস্থিতি বজায় রাখা প্রয়োজন।




















