সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮১ বার পড়া হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সুরক্ষা দিতে এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত আলোচনায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইন নয়
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা ও মতামত নেওয়ার মাধ্যমে আইনটি আরও সমৃদ্ধ করা হবে। গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক যেন অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সংশোধনী প্রস্তাবে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আপিল নিষ্পত্তিতে সময়সীমার প্রস্তাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে কোনো ব্যক্তি বা মামলা যেন অনির্দিষ্টকাল ধরে ঝুলে না থাকে, তা নিশ্চিত করা যাবে।
সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আরও মতামত সংগ্রহের জন্য একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এ কাজে পিআইইউকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়া সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংগঠন এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করা হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল গঠনের দায়িত্ব তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে।
১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেবিনেটে পাঠানোর আগে সংশোধনী প্রস্তাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। তখন সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। গ্রহণযোগ্য মতামতগুলো পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এরপর বিধি অনুযায়ী আন্তমন্ত্রণালয় সভা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিলটি কেবিনেটে পাঠানো হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সংসদেও হবে বিস্তারিত আলোচনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিলটি তাড়াহুড়া করে পাস করা হবে না। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি সংসদের বাইরেও সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হবে।
সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে চান বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যার মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সাইবার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
























