সবজির বাজারে বাড়তি চাপ
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোল, ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, ঝিঙা, ধুন্দল ও করলাসহ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু ব্যবসায়ী প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি দাম বাড়াচ্ছেন। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে ভোক্তার চাপ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাজারে প্রভাব
গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এরপর থেকেই বিভিন্ন পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়ার কথা জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এরই মধ্যে প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা এবং আটা-ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এবার কাঁচাবাজারেও সেই প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে।
এক সপ্তাহে বেগুন-পটোলের দাম বেড়েছে
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে লম্বা বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন বাজারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এখন তা বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা হয়েছে।
এ ছাড়া ঝিঙা ও ধুন্দলসহ কয়েকটি সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা নঈম আহমেদ বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি বাজারেও সবজির দাম বেড়েছে। তাই বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
ট্রাক ভাড়াও বেড়েছে
আরেক ব্যবসায়ী রায়হান আলী বলেন, মাদারীপুর থেকে যাত্রাবাড়ীতে বেগুন আসে। তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি ট্রাকের ভাড়া ছিল প্রায় ১৮ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে প্রতি কেজিতে সামান্য মূল্য সমন্বয়ের কথা থাকলেও কোনো কোনো সবজির দাম একবারে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়ানোর যৌক্তিকতা কতটা।
শ্যামবাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী শামীম বলেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ কিছুটা বাড়বে, তা স্বাভাবিক। কিন্তু একবারে কোনো কোনো সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বাজারে নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো দাম বাড়াচ্ছেন।
অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কারখানা, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়বে। তবে পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে কোনো পণ্যের দাম কতটা বাড়ার কথা, তা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারির দাবি
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। সরবরাহব্যবস্থায় কোথাও অসঙ্গতি তৈরি হলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সবজির বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয়ের প্রকৃত প্রভাব কতটা এবং এর সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।























