০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ ৫০০ স্কুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটির প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয় সোমবার (৫ অক্টোবর) আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এসব স্কুলে ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোথাও পুরোপুরি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও আংশিকভাবে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

২৪টি স্কুলে আগুন ও ভাঙচুর

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোববার শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ধাপে ধাপে স্কুলগুলোতে আবার ক্লাস চালু করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে ক্ষোভ

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্রান্সের অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং অনেক স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।

প্যারিসে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভে সহিংসতা ও সম্পদ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।

এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেন, উগ্র বামপন্থিদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে। তার দাবি, এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

তিনি জানান, বিক্ষোভের ঘটনায় শিক্ষা খাতের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি ফ্রান্সে আগে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, গত শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে আন্দোলনের আয়োজকেরা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার এখনো শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে যথেষ্ট ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নেয়নি।

সমাধানের আশ্বাস সরকারের

অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আরও পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্লাস স্বাভাবিক রাখা, স্কুলের অবকাঠামোর উন্নয়ন, দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভে যারা স্কুল বা অন্য কোনো স্থাপনা ও সম্পদের ক্ষতি করেছে, তাদের কাছ থেকেই ক্ষয়ক্ষতির অর্থ আদায়ের বিষয়ে একটি বিলের পর্যালোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে সরকারের এসব উদ্যোগের পরও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ ৫০০ স্কুল

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটির প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয় সোমবার (৫ অক্টোবর) আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এসব স্কুলে ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোথাও পুরোপুরি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও আংশিকভাবে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

২৪টি স্কুলে আগুন ও ভাঙচুর

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোববার শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ধাপে ধাপে স্কুলগুলোতে আবার ক্লাস চালু করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে ক্ষোভ

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্রান্সের অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং অনেক স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।

প্যারিসে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভে সহিংসতা ও সম্পদ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।

এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেন, উগ্র বামপন্থিদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে। তার দাবি, এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

তিনি জানান, বিক্ষোভের ঘটনায় শিক্ষা খাতের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি ফ্রান্সে আগে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, গত শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে আন্দোলনের আয়োজকেরা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার এখনো শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে যথেষ্ট ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নেয়নি।

সমাধানের আশ্বাস সরকারের

অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আরও পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্লাস স্বাভাবিক রাখা, স্কুলের অবকাঠামোর উন্নয়ন, দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভে যারা স্কুল বা অন্য কোনো স্থাপনা ও সম্পদের ক্ষতি করেছে, তাদের কাছ থেকেই ক্ষয়ক্ষতির অর্থ আদায়ের বিষয়ে একটি বিলের পর্যালোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে সরকারের এসব উদ্যোগের পরও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।