শহীদ আবরার হত্যার ৭ বছর: দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের
- আপডেট সময় : ০৪:২৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন কুষ্টিয়ার সন্তান আবরার ফাহাদ।
সন্তান হত্যার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের দেওয়া রায় পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন আবরারের পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আবরারের স্মৃতি আঁকড়ে পরিবার
কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরার ফাহাদের বাড়ি। বাড়ির ঘরের শোকেসে এখনো সাজানো রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। আগের মতোই রয়েছে তার বিছানা ও পড়ার টেবিল। শুধু নেই আবরার।
ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও অসংখ্য স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটছে মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহর। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে বুয়েটের উদ্দেশে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। কে জানত, ওই দিনই আমার ছেলের সঙ্গে শেষ দেখা। এই বিদায় যে জীবনের শেষ বিদায় হয়ে যাবে, তা জানলে ছেলেকে আর পাঠাতাম না।’
শেরেবাংলা হলে নির্যাতনের পর হত্যা
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে হল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যার সাত বছর পার হলেও আদালতের দেওয়া রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। আমরা শুধু দিন গুনছি, কবে রায় পুরোপুরি কার্যকর হবে।’
রায় কার্যকরের অপেক্ষায় ১০৫ বছরের দাদা
নাতি আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন তার ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুর। জীবদ্দশায় নাতি হত্যার রায় কার্যকর হতে দেখে যেতে চান তিনি।
আবরারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
আবরারের স্মৃতি ধরে রাখার দাবি
আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পরও ঘটনাটি কুষ্টিয়াবাসীর মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়। স্থানীয়দের পাশাপাশি আবরারের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহা বলেন, আবরার তার আদর্শ, স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তবে মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ আর কোনোদিন তাদের সন্তানকে ফিরে পাবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় প্রত্যাশা করি, আদালতের রায় যেন দ্রুত পুরোপুরি কার্যকর হয়।’
আবরারের পরিবার ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে।




















