লেবাননে নিষিদ্ধ ফসফরাস হামলা চালালো ইসরায়েল
- আপডেট সময় : ০১:২২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনী সাদা ফসফরাসের গোলা ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাবাতিয়েহ জেলার কয়েকটি এলাকায় কামানের গোলাবর্ষণের সময় ফসফরাস গোলা ব্যবহার করা হয়।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার আল-ফাওকার উপকণ্ঠে প্রথমে ফসফরাস গোলা নিক্ষেপ করা হয়। পরে জাওতার আল-শারকিয়াহ এলাকাতেও একই ধরনের গোলা ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন, হারিস ও হাদ্দাতার উপকণ্ঠেও কামানের গোলা নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবারের হামলায় নাবাতিয়েহ জেলার জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন এবং নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার আশপাশের এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলায় ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য কামানের গোলা নিক্ষেপের কথাও জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা মারজায়ুন ও বিন্ত জবাইল জেলার দুটি এলাকায় ইসরায়েলের ফেলা দুটি বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করেছেন। পরে বোমা দুটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কী এই সাদা ফসফরাস?
সাদা ফসফরাস অত্যন্ত দাহ্য একটি রাসায়নিক পদার্থ। বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে এটি দ্রুত জ্বলে ওঠে। এর ফলে প্রচণ্ড তাপ ও ঘন ধোঁয়া তৈরি হয়। মানুষের শরীরে লাগলে গুরুতর ও গভীর দগ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সাদা ফসফরাসকে সরাসরি রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় না। তবে এর ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক জনগণ বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দাহ্য অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিধান প্রযোজ্য।
হামলায় হতাহতের দাবি
লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে লেবানন।
জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তিতে অধিকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার, ওই এলাকাগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।




















