রাবিতে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটের অভিযোগ প্রভোস্টের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আড়াল করতেই ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রভোস্ট।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।
হামলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুসহ প্রায় ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে অভিযোগ
হামলার ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চান। তবে তিনি ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের।
এরপর ফুটেজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সাংবাদিকেরা সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে আসেন। পরে সেটি ফেরত দেওয়ার কথা জানান তাঁরা।
সাংবাদিকদের দাবি, হার্ডডিস্কে হামলার সময়কার কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তাঁদের অভিযোগ, হামলাকারীদের আড়াল করতে ঘটনার পরপরই সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে।
তদন্তের দাবি সাংবাদিকদের
বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সংগঠন প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো গুরুতর ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রভোস্ট ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া হলেও সেখানে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। হামলাকারীদের রক্ষা করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
আশিকুল ইসলাম আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং তা নষ্ট করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার প্রভোস্টের
তবে সাংবাদিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, হলের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় ওই সময় সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এ কারণে কোনো ফুটেজ পাওয়া যাবে না।
ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগকে তিনি পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারেন। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই।
তিনি জানান, তদন্ত কমিটি প্রয়োজনীয় তথ্য যেখানে পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করবে।
ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ সত্য কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
























