০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ৮ মাসে ৭২৩ চাঁদাবাজির মামলা, প্রমাণ মিলেছে ৮৫ শতাংশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৭২৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার প্রায় ৮৫ শতাংশের তদন্তে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। তবে চার্জশিট দেওয়ার পরও অনেক মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এসব মামলায় আসামিদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকার ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চাঁদাবাজির এসব মামলা করা হয়। ঢাকা সিএমএম আদালতের নথি পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

মোহাম্মাদপুরে সবচেয়ে বেশি মামলা

নথি অনুযায়ী, আট মাসে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। এরপর রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা।

৭২৩টি মামলার মধ্যে ৪২৫টির তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৪১ শতাংশ মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

গত ২০ মাসের হিসাবেও চাঁদাবাজির মামলার একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র পাওয়া গেছে। এ সময়ে মহানগরে ৩৬৫টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বাকি প্রায় ১৫ শতাংশ মামলায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

চার্জশিটের পরও শুরু হয়নি বিচার

চাঁদাবাজির মামলায় তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হলেও অনেক মামলার বিচার এখনো শুরু হয়নি। এর মধ্যে কিছু মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। আবার কোনো কোনো মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্প্রতি মিরপুরের আড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায়ও চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ ওঠে।

জামিনের ক্ষেত্রে সতর্কতার আহ্বান

চাঁদাবাজির মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি বলেন, যেসব তুলনামূলক ছোট অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারকেরা ঐতিহ্যগতভাবে নমনীয় ছিলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মত দেন।

উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকা চাঁদাবাজির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তার মতে, স্থগিতাদেশের কারণে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘদিন বন্ধ না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

দ্রুত বিচার চান আইনজীবীরা

আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খান মনে করেন, চাঁদাবাজির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন হবে। তার ভাষ্য, চার্জশিট দেওয়ার পরও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে প্রকৃত অপরাধীরা আইনি সুযোগ নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন।

বর্তমান আইনে চাঁদাবাজির অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মৃত্যুর হুমকির মতো পরিস্থিতি থাকলে শাস্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে। চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাজধানীতে ৮ মাসে ৭২৩ চাঁদাবাজির মামলা, প্রমাণ মিলেছে ৮৫ শতাংশের

আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৭২৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার প্রায় ৮৫ শতাংশের তদন্তে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। তবে চার্জশিট দেওয়ার পরও অনেক মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এসব মামলায় আসামিদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকার ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চাঁদাবাজির এসব মামলা করা হয়। ঢাকা সিএমএম আদালতের নথি পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

মোহাম্মাদপুরে সবচেয়ে বেশি মামলা

নথি অনুযায়ী, আট মাসে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। এরপর রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা।

৭২৩টি মামলার মধ্যে ৪২৫টির তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৪১ শতাংশ মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

গত ২০ মাসের হিসাবেও চাঁদাবাজির মামলার একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র পাওয়া গেছে। এ সময়ে মহানগরে ৩৬৫টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বাকি প্রায় ১৫ শতাংশ মামলায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

চার্জশিটের পরও শুরু হয়নি বিচার

চাঁদাবাজির মামলায় তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হলেও অনেক মামলার বিচার এখনো শুরু হয়নি। এর মধ্যে কিছু মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। আবার কোনো কোনো মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্প্রতি মিরপুরের আড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায়ও চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ ওঠে।

জামিনের ক্ষেত্রে সতর্কতার আহ্বান

চাঁদাবাজির মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি বলেন, যেসব তুলনামূলক ছোট অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারকেরা ঐতিহ্যগতভাবে নমনীয় ছিলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মত দেন।

উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকা চাঁদাবাজির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তার মতে, স্থগিতাদেশের কারণে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘদিন বন্ধ না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

দ্রুত বিচার চান আইনজীবীরা

আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খান মনে করেন, চাঁদাবাজির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন হবে। তার ভাষ্য, চার্জশিট দেওয়ার পরও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে প্রকৃত অপরাধীরা আইনি সুযোগ নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন।

বর্তমান আইনে চাঁদাবাজির অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মৃত্যুর হুমকির মতো পরিস্থিতি থাকলে শাস্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে। চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন আইনজীবীরা।