মামলার নথি গায়েব: আইনজীবী, সাবেক কোর্ট জিআরওসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৫:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানো, আদালতের অর্ডার শিটে কাটাকাটি এবং মামলার নথি গায়েবের অভিযোগে আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন গাইবান্ধা জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন, তার মুহুরি হাসান আলী এবং গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর।
গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজের নির্দেশে গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিনের অভিযোগ
মামলার সূত্রে জানা গেছে, তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব এবং অর্ডার শিটের আদেশে কাটাকাটির অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
বিষয়টি তদন্তের জন্য গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে দায়িত্ব দেয় শিশু আদালত-২। পরে তিনি গত ১৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এতে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল এবং তার মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের একটি পর্যবেক্ষণের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
আদালতের নির্দেশে মামলা
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৩০ আগস্ট শিশু আদালত-২-এর বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত আদেশ গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
মামলা হওয়ার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
























