মক্কায় হামলার নিন্দা, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের সেনাপ্রধানদের বৈঠক
- আপডেট সময় : ১২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
মক্কা ও সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে তিন দেশ। একই সঙ্গে সৌদিকে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। সৌদি সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট এ তথ্য জানিয়েছে।
নিউইয়র্কে তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
জাতিসংঘে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
বৈঠকে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পরামর্শের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি চুক্তির সাধারণ সচিবালয়, কমিটি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি
তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবকে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য দেশগুলোর সেনাপ্রধানদের একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর আওতায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ
বৈঠকে তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মক্কা ও সৌদি আরবের বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
এ সময় জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সৌদি আরবের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
একই সঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতিও গুরুত্বারোপ করা হয়। সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেন তিন মন্ত্রী।
তারা পুরো অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি উত্তেজনা কমানো এবং চলমান সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতি সমর্থন জানান।






















