০১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ এলাকা নিয়ে চীন-পাকিস্তানের সীমান্ত কমিশন কার্যকর, ক্ষুব্ধ ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চীন ও পাকিস্তান তাদের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশন কার্যকরের ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভারত। দিল্লির দাবি, যে এলাকায় চীন ও পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি ভারতের ভূখণ্ড।

যৌথ সীমান্ত কমিশন কেন

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তসংক্রান্ত সহযোগিতা নতুন নয়। ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিতে যৌথ সীমান্ত কমিশনের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এবার সেই ব্যবস্থাকে কার্যকর করা হয়েছে।

পাকিস্তান কমিশন গঠনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে। দেশটির মতে, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

যে অঞ্চল নিয়ে ভারতের আপত্তি

এই কমিশনের কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ভারত এই চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ এবং অঞ্চলটি পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে পরে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো স্বীকৃত সীমান্ত নেই। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, তথাকথিত যৌথ সীমান্ত কমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ভারত আরও বলেছে, তাদের দাবি করা ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তানের কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার নেই। একই কারণে ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকেও দিল্লি অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে।

পাকিস্তানের অবস্থান

অন্যদিকে পাকিস্তানের বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে ভারত প্রশ্ন তোলার অবস্থানে নেই বলে মনে করে ইসলামাবাদ।

এদিকে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই বিভিন্ন অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) এবং কারাকোরাম মহাসড়ক উল্লেখযোগ্য।

কেন এখন কার্যকর করা হলো

বিশ্লেষকদের মতে, কমিশন কার্যকরের পেছনে সীমান্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষার বিষয় থাকতে পারে।

শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাবিন টি জেকবের মতে, এটি চীন-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ। তবে বর্তমান সময়ে কমিশন কার্যকর করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি মনে করেন, কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক। সীমান্ত সহযোগিতা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সুরক্ষায় এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলে চীন-পাকিস্তানের সীমান্ত কমিশন কার্যকর হওয়ার ঘটনাটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে শাকসগাম উপত্যকার মালিকানা নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের দীর্ঘদিনের ভিন্ন অবস্থানের কারণে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিশেষ এলাকা নিয়ে চীন-পাকিস্তানের সীমান্ত কমিশন কার্যকর, ক্ষুব্ধ ভারত

আপডেট সময় : ১২:২৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীন ও পাকিস্তান তাদের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশন কার্যকরের ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভারত। দিল্লির দাবি, যে এলাকায় চীন ও পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি ভারতের ভূখণ্ড।

যৌথ সীমান্ত কমিশন কেন

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তসংক্রান্ত সহযোগিতা নতুন নয়। ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিতে যৌথ সীমান্ত কমিশনের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এবার সেই ব্যবস্থাকে কার্যকর করা হয়েছে।

পাকিস্তান কমিশন গঠনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে। দেশটির মতে, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

যে অঞ্চল নিয়ে ভারতের আপত্তি

এই কমিশনের কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ভারত এই চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ এবং অঞ্চলটি পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে পরে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো স্বীকৃত সীমান্ত নেই। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, তথাকথিত যৌথ সীমান্ত কমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ভারত আরও বলেছে, তাদের দাবি করা ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তানের কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার নেই। একই কারণে ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকেও দিল্লি অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে।

পাকিস্তানের অবস্থান

অন্যদিকে পাকিস্তানের বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে ভারত প্রশ্ন তোলার অবস্থানে নেই বলে মনে করে ইসলামাবাদ।

এদিকে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই বিভিন্ন অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) এবং কারাকোরাম মহাসড়ক উল্লেখযোগ্য।

কেন এখন কার্যকর করা হলো

বিশ্লেষকদের মতে, কমিশন কার্যকরের পেছনে সীমান্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষার বিষয় থাকতে পারে।

শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাবিন টি জেকবের মতে, এটি চীন-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ। তবে বর্তমান সময়ে কমিশন কার্যকর করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি মনে করেন, কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক। সীমান্ত সহযোগিতা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সুরক্ষায় এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলে চীন-পাকিস্তানের সীমান্ত কমিশন কার্যকর হওয়ার ঘটনাটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে শাকসগাম উপত্যকার মালিকানা নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের দীর্ঘদিনের ভিন্ন অবস্থানের কারণে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।